মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ৪২টি আপিল দায়ের করেছেন। এর মধ্যে একটি আবেদন এসেছে প্রার্থিতা বাতিলের জন্য। আর ৪১টি আবেদন পড়েছে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য।

গতকাল সোমবার আপিল দায়েরের সময় শেষে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিলে আপিল আবেদন দাখিলের বুথ পরিদর্শনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবো। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা কনভিন্সড সবার সহযোগিতা নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবো।

ইসির ভেতরে অভিযোগ গ্রহণের জন্য ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল আপিল দাখিলের মধ্যে রয়েছে, রংপুর অঞ্চলে ৩টি, রাজশাহী অঞ্চলে ৫টি, খুলনা অঞ্চলে ৩টি, বরিশাল অঞ্চলে ১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১টি, ঢাকা অঞ্চলে ১৫টি, ফরিদপুর অঞ্চলে ৭টি, সিলেট অঞ্চলে কেউ আবেদন করেননি, কুমিল্লা অঞ্চলে ৫টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২টি। এদিকে কুমিল্লা অঞ্চলে ১ জন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে।

জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের একে একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেন বিএনপির প্রার্থী এমএ হান্নান। একরামুজ্জামান নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন।

তবে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয় পান।

আবেদনকারীদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাও এসেছিলেন। এ ছাড়া বগুড়া-৪ আসনে আমজনতার দলের প্রার্থী হিরো আলম আবেদন জানাতে এলে তাকে আদালতে যেতে বলেছে ইসি। হিরো আলম পর্যাপ্ত ‘সময় না পাওয়ায়’ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬টি, মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ২ হাজার ৫৬৮টি। বাছাইয়ে বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৮৪২টি। আর বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ১৩৩টি। সবচেয়ে কম বাতিল হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে, ৩১টি।

তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো বাছাই করেছেন। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।