ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো অটুট

ইসরাইল আরব আমিরাত ও কুয়েতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও মিসাইল হামলা

ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সেতু উড়িয়ে দেয়ার হুমকি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই দেশটির সেনাপ্রধানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরানী বাহিনী গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমানসহ দুটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা শাখার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো অটুট রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছার মধ্যেই ইরান ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর বাইরে আরব আমিরাতে অন্যতম প্রধান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্সে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ¦ালানি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ইরানের হিটলিস্টে এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর মানচিত্র প্রকাশ করে দেশটি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সেতুগুলো উড়িয়ে দেবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আল-জাজিরা, রয়টার্স, এএফপি, প্রেস টিভি, সিএনএন, গার্ডিয়ান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন সেনা প্রধানকে সরিয়ে দিলেন হেগসেথ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল জর্জকে তার পদ থেকে আগাম অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, জেনারেল জর্জ অবিলম্বে কার্যকর হবে এমন শর্তে তার পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি আর তার পদে থাকছেন না। গত বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বন্ডিকে আইন প্রয়োগকারী শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। এর আগে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পাম বন্ডি যেভাবে যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের তদন্তসংক্রান্ত নথিগুলো সামলেছেন, তা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ কারণে তিনি বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। ট্রাম্প বলেছেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সাময়িকভাবে অন্তর্বর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ পোস্টে উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তিনি কেবল লিখেছেন, ‘আমরা পামকে ভালোবাসি।’তবে বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তিনি কেবল লিখেছেন, ‘আমরা পামকে ভালোবাসি।’ ট্রাম্প আরও বলেছেন, বন্ডি এখন বেসরকারি খাতে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ’ নতুন একটি কাজে যোগ দেবেন। বন্ডির আগে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমকে বরখাস্ত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন লি জেলডিনকে বিচার বিভাগের পরবর্তী দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন। জেলডিন বর্তমানে মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া জেফরি এপস্টিনের কারাগারে মৃত্যু হয় ২০১৯ সালে। এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে বারবারই ট্রাম্পের নাম উঠে এসেছে। কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিলের আওতায় মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন সংক্রান্ত নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। বন্ডি বিচার বিভাগের নেতৃত্বে থাকা অবস্থাতেই নথিগুলো প্রকাশিত হয়েছে। তবে আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, নথিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আরেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের পাইলটের পরিণতি অজানা

ইরানি বাহিনী গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ দুটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি করেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান হামলা চালাচ্ছে। গত বছরের জুনে হামলার প্রায় আট মাস পর এবার হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্য ইরানে একটি স্টিলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ভূপাতিত বিমানটি লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুদ্ধবিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিমানটি পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে পাইলটের পরিণতি কী হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

এর আগে শুক্রবার সকালে আইআরজিসি ঘোষণা করেছিল, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের আরেকটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই বিমানটি পরবর্তী সময়ে হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মাঝামাঝি ‘পারস্য উপসাগরে’ আছড়ে পড়ে। আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মিথ্যা দাবির পর দেশের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইআরজিসি নৌবাহিনীর আধুনিক উন্নত ব্যবস্থার মাধ্যমে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে শত্রুর একটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে আঘাত করা হয়েছে।’

এসব ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে গত ১১ মার্চ আইআরজিসি সফলভাবে মধ্য ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেটে আঘাত করেছিল। যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যম পরে নিশ্চিত করেছিল, একটি এফ-৩৫ পশ্চিম এশিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। ইরানি হামলার কারণে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে পরে এনপিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই যুদ্ধবিমান শিগগিরই আর সচল করা যাবে না। তা ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধে তিনটি এফ-১৫ ও একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার হারানোর কথা নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগন অবশ্য এই বিপর্যয়কর ক্ষতিগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এগুলোকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের ভুলবশত আক্রমণ) বা ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করছে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী নেভাদায় একটি এফ-৩৫ বিধ্বস্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে স্টিলথ ফাইটার হারানোর খবর লুকাতে এটি একটি মরিয়া চেষ্টা এবং সাজানো গল্প মাত্র।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো অটুট

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। এছাড়া দেশটির অস্ত্রাগারে রয়ে গেছে হাজার হাজার ড্রোন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে তিনটি সূত্র সিএনএনকে এসব তথ্য জানিয়েছে। ইরান সম্পর্কে একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ‘তাদের (ইরান) এখনো সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চরম ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা আছে।’গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন কিছু লঞ্চারের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো হয়তো হামলার কারণে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। ফলে এগুলো আপাতত ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও সচল রয়েছে।দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের হাজার হাজার ড্রোন এখনো বিদ্যমান, যা দেশটির ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান উপকূলে খুব একটা বিমান হামলা না চালানোয় এগুলো রক্ষা পেয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে বিজয়ের দাবি করেছেন। তবে এই গোয়েন্দা তথ্য বলছে সম্পূর্ণ কথা।

ইসরাইল লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে যখন ইরান থেকে ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পুনরায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের আকাশসীমানায় ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ইসরাইলী সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে ইসরাইলী বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাসক্ষেত্রে আগুন, উৎপাদন বন্ধ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ‘হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্স’-এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আকাশপথে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্যাসক্ষেত্রের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের তেল ও পানি শোধনাগারে হামলা চালাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধের ৩৫তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দ্বিপ্রহরের ঠিক আগে একটি বিদ্যুৎ ও লোনা পানি শোধনাগার ইরানি হামলার শিকার হয়। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার ‘মিনা আল-আহমাদি’-তে ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলার ফলে শোধনাগারের বেশ কয়েকটি অপারেশনাল ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। দ্রুত সেখানে দমকল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে এই ঘটনায় কোনো কর্মী হতাহত হননি এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার যে গুজব উঠেছিল তা ভিত্তিহীন। পরিবেশ অধিদপ্তর বর্তমানে ওই এলাকার বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছে।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই শোধনাগারটি আক্রান্ত হলো। কুয়েত উপকূল থেকে ইরানের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার হওয়ায় দেশটি ইরানের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার দিনভর কুয়েতজুড়ে সাইরেন এবং মাঝ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের শব্দ শোনা গেছে। কুয়েত ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপেয় পানির জন্য শোধনাগারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই হামলা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর আট সেতু উড়িয়ে দেবে ইরান

ইরানের ‘হিট লিস্টে’ এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাদের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু বি ১-এ আমেরিকা এবং ইসরাইল হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই সেতুগুলোর মানচিত্র এবং তালিকা প্রকাশ করে দুই দেশকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ইরান। তাদের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমতে সেই তালিকা ছবি-সহ প্রকাশ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের কারাজে সে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘতম সেতু বি ১-এ বোমাবর্ষণ করে ইসরাইল এবং আমেরিকা। সেতুতে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, এখনও সময় আছে। না হলে এর থেকেও আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। এর পর শক্তিকেন্দ্রগুলোকেও নিশানা বানানো হবে বলেও হুঙ্কার দেন ট্রাম্প।

কিন্তু ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারি বা হুঙ্কারের কাছে তারা যে মাথা নোয়াতে রাজি নয়, বি ১ সেতুতে মার্কিন এবং ইসরাইলী বাহিনীর হামলার পরই পাল্টা আটটি সেতুর তালিকা প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিতে চাইল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমেদ আল-সাবা সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শেখ জায়েদ, আল মাকতা এবং শেখ খলিফা সেতু। এ ছাড়াও বাহরিনের কিং ফাহদ কজওয়ে (সৌদি এবং বাহরিনের সংযোগকারী সেতু), জর্ডনের কিং হুসেন, দামিয়া এবং আবদুন সেতু। তেহরানের সঙ্গে ইরানের পশ্চিম অংশের শহর কারাজের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী সেতু বি ১। বৃহস্পতিবার সেই সেতুতে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করে মার্কিন এবং ইসরাইল বাহিনী। এটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এখনও নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর একাংশ গুঁড়িয়ে গিয়েছে।

যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের এখনই ‘বিজয় ঘোষণা’ করা উচিত: জাভেদ জারিফ

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ চলমান সংঘাত অবসানে এক চাঞ্চল্যকর শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ইরানের সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই। তবে তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, ইরানের উচিত এখনই ‘বিজয় ঘোষণা করা’ এবং এমন একটি চুক্তিতে আসা যা বর্তমান সংঘাত থামাবে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করবে।

জারিফের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের প্রধান শর্তগুলো হলো

পারমাণবিক কর্মসূচি : ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে অঙ্গীকার করবে। ২০১৫ সালের চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে মাত্রা (৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) ঠিক করা হয়েছিল, ইরান তাদের মজুদ সেই সীমার নিচে নামিয়ে আনবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছেন।

আঞ্চলিক কেন্দ্র: চীন ও রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এ অঞ্চলে একটি অভিন্ন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ইরান তার সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও সরঞ্জাম সেখানে সরিয়ে নেবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ইরানকে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি: হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকেও এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।

অনাক্রমণ চুক্তি: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ সই করবে, যেখানে দুই দেশ ভবিষ্যতে একে অপরকে আক্রমণ না করার অঙ্গীকার করবে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত ছাড়া জারিফ এ নিবন্ধ প্রকাশ করতে পারতেন না। সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে নির্বাচিত করতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে এ প্রস্তাবে মার্কিন প্রশাসন কেমন সাড়া দেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, জারিফ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ভূ-রাজনীতি ও পারমাণবিক বিষয়ে ‘একেবারে মূর্খ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগেও এ দুজনই ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন।