• যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো
  • নিজ নাগরিকদের ১৪টি দেশ ছাড়তে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
  • ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর হামলা

মুহাম্মদ নুরুল হুদা: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিসহ অন্যত্র ইরানের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ন্যাটো জোট। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের ১৪টি দেশ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ইরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কেউ তা অতিক্রম করার চেষ্টাকরে তাহলে নৌবাহিনীর বীররা জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিবে । বিবিসি ও আল-জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুব শিগগির বড় ধরনের ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুটি ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়। এর ফলে দূতাবাস ভবনে ‘সামান্য অগ্নিকাণ্ড ও সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার ঘটনায় চুপ করে থাকবে না এবং খুব শিগগির বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হামলার পরপরই সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিশন রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানে অবস্থানরত তাদের সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের যেকোনো সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোয় এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ওই হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনের সাংবাদিক কেলি মেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ হামলার জবাবে ওয়াশিংটন কী করতে যাচ্ছে, তা ‘আপনারা খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন’।

হামলার পরপরই সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিশন রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানে অবস্থানরত তাদের সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের যেকোনো সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোয় এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার ঘটনায় চুপ করে থাকবে না এবং খুব শিগগির বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এ ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিজ নাগরিকদের ১৪টি দেশ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি’র কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর আমেরিকানদের যত দ্রুত সম্ভব এবং বর্তমানে চালু থাকা পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব দেশ ত্যাগ করতে পরামর্শ দিচ্ছে। সতর্কবার্তায় যে দেশগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক টুইট বার্তায় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৫টি দেশের ভূখণ্ড বা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির উল্লেখ করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, বাহরাইন, ওমান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইতালি এবং যুক্তরাজ্য।

বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটির সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ২০টি ড্রোন এবং তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির নৌ বাহিনী ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকার মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানে, ঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে।

তবে এ হামলার কোন প্রমাণ তারা দেখায়নি। হামলার বিষয়ে বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন ও ইসরাইলী হামলার জবাবে ইরান এ হামলা ঘটিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিদেশী দূতাবাস ও কূটনীতিক আবাসস্থল এলাকায় বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ার স্তর দেখা গেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসে আঘাত করেছে এবং আগুন ধরে গেছে।

এছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে । গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তার স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েক সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও এই যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।

ব্রাসেলসে জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে যা করছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জোট হিসেবে ন্যাটো এই যুদ্ধে অংশ নেবে না উল্লেখ করে রুত্তে বলেন, ‘এই লড়াইয়ে ন্যাটোর জড়িয়ে পড়া বা অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা একেবারেই নেই।’ তিনি আরও জানান, জোটগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকলেও সদস্য দেশগুলো চাইলে ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন বা সহযোগিতা করতে পারে।

ইরানে আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। একইসঙ্গে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী আইআরজিসির কমান্ড ও কন্ট্রোল সুবিধা, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চ সাইট এবং সামরিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে।

তাদের দাবি, এসব অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সুবিধাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন ও ইসরাইলী বাহিনী ইরানের শত শত লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল সাইট। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার স্ত্রীসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জাহাজ এলে আগুন দেওয়া হবে

ইরানের আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি সোমবার (২ মার্চ) বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীটি বন্ধ। যদি কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীররা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলী ও মার্কিন বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বিশ্বের জ্বালানি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে যেখানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক পোস্টে জাবারি আরও বলেন, ‘আমরা তেল পাইপলাইনগুলিতেও আক্রমণ করব এবং এক ফোঁটা তেলও এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে দেব না। আগামী দিনে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।’ ইরানের আধা সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ঋণগ্রস্ত আমেরিকানরা এই অঞ্চলের তেলের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাদের জানা উচিত যে এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না।’ ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুটগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে।

ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর হামলা

ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে তাদের ঘাঁটিগুলোতে ইসরাইলী হামলার জবাবে তারা এই পালটা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটি জানায়, তাদের যোদ্ধারা উত্তর ইসরাইলের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি ও মেরন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, ‘লেবাননের ডজনখানেক শহর ও জনপদে ইসরাইলের অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে’ তারা এই দুটি ঘাঁটিকে ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া, সংগঠনটি অধিকৃত গোলান হাইটসের একটি সামরিক স্থাপনায় রকেট হামলাও চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে বৈরুতে সিরিজ হামলা শুরু করে ইসরাইল।বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলা চালায় ইসরাইলী বাহিনী। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র একদিনে দেশটিতে ইসরাইলের হামলায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন দেড়শতাধিক।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। দিনভর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে তাপমাত্রা কম থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। এক বক্তা জনতার উদ্দেশে বলেন, তিনি ‘অন্তহীন, বোকামিপূর্ণ, অনৈতিক ও বিপজ্জনক যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বিক্ষোভকারীরা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর শহরের রাস্তায় শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন। ‘হ্যান্ডস অফ ইরান নাউ’ (ইরান থেকে হাত সরাও) স্লোগান দিতে দিতে তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও। লস অ্যাঞ্জেলসে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে ‘নো ওয়ার অন ইরান’ (ইরানে যুদ্ধ নয়) স্লোগান দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা বন্ধের দাবি জানান।

একই ধরনের প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে শিকাগো, পোর্টল্যান্ড এবং ম্যাডিসনেও। শহরগুলোতে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন। যুদ্ধ ও দখলবিরোধী সংগঠন ‘অ্যানসার কোয়ালিশন’ সপ্তাহান্তে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, সোমবার হবে ‘স্টপ দ্যা ওয়ার ইন ইরান’ শিরোনামে জাতীয় বিক্ষোভ দিবস। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে নির্ধারিত কর্মসূচির তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

ইরানের ১৫৩ শহরে হামলা, নিহত বেড়ে ৭৮৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার সকাল থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরানের ১৫৩টি শহরের ৫০৪টি স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলী বাহিনী। এসব স্থানে মোট হামলা রেকর্ড করা হয়েছে এক হাজার ৩৯টি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার কর্মীরা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলী হামলায় ১৭৬ শিশুসহ ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেছেন, ইরানের নয়টি হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থে হামলা করছে ইরানি বাহিনী।