# সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
# প্রকোপ বেড়েছে কিউলেক্স মশার, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র
“রাজধানী ঢাকায় মশা থাকবে, মানুষ থাকবে না”- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ ধরনের নানা মতামত ঘুরছে বেশ কিছুদিন ধরেই। মশার উৎপাত আর জ্বালা-যন্ত্রণার মাত্রা কি পরিমাণের হলে এ ধরনের মতামত ব্যক্ত করা হয়, তা সহজেই বোঝা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরে মশার দাপট কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এছাড়া, মশা নিধনে কাজ করে এমন তিনটি সংস্থার সমন্বয়হীনতা আর জনস্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতা থেকেই মশার বাড়বাড়ন্ত রুপ দেখছে রাজধানীবাসী। এখন মশার দাপটের কাছে অসহায়ত্ত প্রকাশ করে অসময়ে এসে চলছে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ আর দৌড়ঝাঁপ।
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার রাজধানীর ধলপুর এলাকায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা, পরীক্ষা ও কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে স্বীকার করেছেন , মশা ভয়াবহভাবে বেড়েছে কথাটা সত্য। মশার ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, আমরা কিন্তু তারপরে ক্ষমতায় এসেছি এবং শপথ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি মাত্র সাত দিন হলো।
এদিকে, বিভক্ত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকদ্বয় দায়িত্ব গ্রহণের পরই বুধবার মশা নিধনের ওপর জোর দিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাঁরা মশা মারার ওষুধসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিভাগীয় সভাও করেছেন। সংশ্লিষ্টদেরকে মাঠে নেমে মশার যন্ত্রণা থেকে ঢাকাবাসীকে রেহাই দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানীতে হঠাৎ কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে। পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত রোগে গত দুই মাসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তি। এমন পরিস্থিতিতে সারা বছরব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত শীত মৌসুম এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে কিউলেক্স মশার দাপট কিছুটা বাড়ে। তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে মশার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাভিত্তিকভাবে মশার ঘনত্বও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
গবেষণা: ঢাকায় এক মাসেই মশা বেড়েছে ৪০ ভাগ
সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে এমন নয়; বরং তা মারাত্মক মাত্রা ছুঁয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স। মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
গবেষকেরা বলছেন, তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। আবার এ বছর মশার প্রকোপ আগেই শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এগোচ্ছে না।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়, কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তারই বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়। তবে এ দুটি রোগ দেশে ততটা প্রকট নয়। এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু ও অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
গবেষণায় যে সতর্কবার্তা
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার ২৬ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। সর্বশেষ জরিপে তাঁর দল দুই ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে, মশার লার্ভা বা শূককীটের ঘনত্ব ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি গণনা করে। লার্ভা পরীক্ষা করতে বিভিন্ন জলাশয় থেকে ২৫০ মিলিলিটার পানি তুলে তাতে লার্ভার সংখ্যা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত পানিতে গড়ে ৮৫০টি লার্ভা পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ১ হাজার ২৫০-এ।
প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি যাচাইয়ের পদ্ধতিটিও চমকে দেওয়ার মতো। একজন মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পা ও বাহু উন্মুক্ত রেখে এক ঘণ্টায় কতটি মশা কামড়াতে আসে, তা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৮৫০।
অধ্যাপক বাশারের আশঙ্কা, মার্চে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বিশ্বমানে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি, এটি কেবল সংখ্যা নয়, এটি একটি বিপৎসংকেত।
ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় কবিরুল বাশার ও তাঁর দলের করা গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগের মতো মধ্য রাজধানী এলাকায় তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
কেন বাড়ছে কিউলেক্স
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও দূষণ, দুটোই কিউলেক্স বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাইফুর রহমান বলেন, অতীতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিউলেক্সের উপদ্রব বাড়লেও এ বছর তা ফেব্রুয়ারি থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কালবৈশাখের আগমন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
সাইফুর রহমান বলেন, চলতি বছর শীতকালের ব্যাপ্তি কম ছিল এবং গরম তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। কিউলেক্স সাধারণত আগস্ট থেকে বংশবিস্তার শুরু করে। শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার শরীরে হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে মশার লার্ভা বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্ত্রী মশার রক্তপানের আগ্রহও কমে যায়। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই প্রক্রিয়া উল্টো হয়, অর্থাৎ দ্রত জীবন চক্র সম্পন্ন করে এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের চাহিদা বাড়ে। ঘনঘন ও বেশি পরিমাণে ডিম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রোটিন রক্তপান থেকে সঞ্চয় করে। ডিম দেওয়ার এ বাড়তি ক্ষমতা মশার দ্রুত বংশবিস্তারে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনি¤œ শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ও গড় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কিউলেক্সের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি দূষণও বড় কারণ। আবর্জনা, বদ্ধ জলাশয় ও নর্দমা কিউলেক্সের প্রধান প্রজননক্ষেত্র।
সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিধনের ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনেক জলাশয়ে মাছের চাষ হয়। সেখানে সিটি করপোরেশনকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমন সমস্যাও রয়েছে।
ব্যবস্থাপনার সমস্যা
ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় আট হাজার বিঘা জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের বড় অংশ মশার উৎপত্তিস্থল। সুত্র জানায়, একবার পরিষ্কার করলে দ্রুতই আবার আবর্জনায় ভরে যায়। জলাশয় ব্যবস্থাপনা সত্যিই খুব জটিল। তাঁর মতে, অনেক এলাকায় খোলা নর্দমা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকার ফলে কিউলেক্সের বংশবিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এলাকার লোকজনকে মোটামুটি চেনেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা লোকজনকে বোঝাতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও সব ক্ষেত্রে তাঁরা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হন না।
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এদিকে মশার উপদ্রব কেবল বিরক্তিকর নয়, এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে এবং ইলেকট্রিক ব্যাটের পেছনে প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবার মাসে গড়ে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘœ এবং রাতের ঘুমে ব্যঘাত ঘটায় কর্মক্ষমতা কমছে নগরবাসীর। এছাড়া কিউলেক্স মশা ডেঙ্গু না ছড়ালেও গোদ বা ফাইলেরিয়া রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধলপুর এলাকায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা, পরীক্ষা ও কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
মশার যন্ত্রণা থেকে দ্রুত নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করছে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মশা ভয়াবহভাবে বেড়েছে কথাটা সত্য। মশার ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, আমরা কিন্তু তারপরে ক্ষমতায় এসেছি এবং শপথ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই মশা নিধনের জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আমদানি করা ওষুধের বেশ কিছু স্যাম্পল নেয়া হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা করা হবে। ওষুধের কার্যকারিতা না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মশার যন্ত্রণায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এ কার্যক্রমে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আবাসিক এলাকায় পানি জমে থাকে, এমন জায়গাগুলোতে নগরবাসীকে বিশেষ নজর ও পরিষ্কার রাখতে হবে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে।
সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনায় ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের পরই বুধবার মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির প্রস্তুতি ও মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিতকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর ২-এ অবস্থিত ডিএনসিসির মশক নিধন ঔষধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মশা নিধন ঔষধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় এবং মশা নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। পরিদর্শন শেষে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকাকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাব।
সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে একটি আধুনিক গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম। বুধবার নগর ভবনে কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, বৃক্ষরোপণ ও ব্যাপক সবুজায়ন, খালের প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও খনন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্যকর মশক নিধন।
ডিএসসিসি সুত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই কার্যক্রমে স্থানীয় সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সভায় সতর্ক করে জানানো হয় যে, সচেতন করার পরেও কারো অবহেলায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বা পরিবেশ দূষিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।