আর ৩ দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, উত্তাপ বেড়েই চলেছে। চায়ের রেস্তোরাঁ, সবজির বাজার, মাছ বাজার, বিপণী-বিতান, পাড়া মহল্লায় এমনকি অন্দরমহল পর্যন্ত এই নির্বাচনকে ঘিরে বয়ে যাচ্ছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর শান্তিপূর্ণভাবে অনেক বছর পর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা বেশ কিছু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে ইতিমধ্যে।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানতে পারেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার লক্ষ্যে এসব অবৈধ অস্ত্র আনা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা কমিশনের বিনিময়ে সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র এনে এপারের অস্ত্র কারবারিদের হাতে তুলে দেন। অস্ত্র কারবারিদের হাত ঘুরে সেসব অস্ত্র পৌঁছে যায় অসাধু রাজনৈতিক নেতা, সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী, ডাকাত, ভূমিদস্যুসহ অপরাধীদের হাতে। সিলেটের কানাইঘাট, জৈন্তাপুরসহ বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢুকায় উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়ছে সীমান্তবাসীর মধ্যে। এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। সেগুলো হলো সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট, জৈন্তাপুরের মিনাটিলা, জাফলংয়ের কাটরি; সুনামগঞ্জের ছনবাড়ি বাজার ও চারাগাঁও; মৌলভীবাজারের বড়লেখার তারাদরম সীমান্ত।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম কয়েকদিন আগে গনমাধ্যমকে জানান, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে বলেই দেশের ভেতরে প্রতিদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে কিছু উদ্ধার হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ভেতরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের টহল ও তল্লাশিচৌকি সক্রিয় আছে। আর পুলিশের ও কারাগার থেকে লূট হওয়া অস্ত্র জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে ভারতের সঙ্গে থাকা অরক্ষিত বিভিন্ন সীমান্তের জেলাগুলো দিয়ে। এ ছাড়া মাছ ধরার ট্রলার, নৌকার মাধ্যমেও দেশে অস্ত্র আনা হচ্ছে। এসব অস্ত্র চোরাকারবারিদের ডেরায় প্রথমে মজুত করা হয়। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অবৈধ অস্ত্রের কারবারিরা এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা কৌশলে পৌঁছে।

কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তে যারা অবৈধভাবে লোকজন পারাপারে জড়িত, তাদের বড় অংশ অস্ত্র চোরাকারবারির সহযোগী। চোরা কারবারিরা বড় অস্ত্রের চালান পার করতে ছোট চালানগুলো নিজেরাই পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। কারণ, একটি অভিযানে পুলিশকে ব্যস্ত রেখে চোরা কারবারিরা অন্য চালানগুলো নিরাপদে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি মিডিয়া ও ডিসি নর্থ সাইফুল ইসলাম জানান, “একটি অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এসএমপি পুলিশও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিনই অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক উদ্ধার করছে পুলিশ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পুলিশের এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই সিনিয়র কর্মকর্তা।”