ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালকে দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সম্প্রতি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর অভিযোগ সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমন মন্তব্য করে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন এক রোগী।

সাংবাদিক সম্মেলনে এস. এম. জামাল উদ্দিন (৫৯) নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ঢাকার বারিধারার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, আমার হৃদযন্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে দুটি ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে-যা আমার জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারত। অভিযোগ অনুযায়ী গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এসপি পিসিআই ও সিএবিজি পরীক্ষার জন্য আমি উপস্থিত হই। চিকিৎসক ডা. আফজালুর রহমান আমাকে মোট ১৮টি পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন।

পরীক্ষার পর প্রথম রিপোর্টটি ডা. মো. হেলাল উদ্দিন প্রদান করেন, যেখানে আমার হৃদযন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর দুইজন নার্স এসে রিপোর্টটি জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর ডা. হেলাল উদ্দিন একটি নতুন রিপোর্ট দেন, যেখানে আমার হৃদযন্ত্রের অবস্থা ‘স্বাভাবিক’ বা ‘ভালো’ হিসেবে দেখানো হয়। এই হঠাৎ পরিবর্তিত রিপোর্টে গুরুতর অসঙ্গতি থাকার কারণে আমি বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে জানানো হয় যে মূল রিপোর্ট হাসপাতালের কাছে আর নেই-যা রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করে।

জামাল উদ্দিন আরও বলেন, রিপোর্টের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি হাসপাতালের নার্স, কর্মচারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের আচরণও অশালীন ও হয়রানিমূলক ছিল। আমি দাবি করছি, এই আচরণ রোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা ও আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এমন ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা কখনোই ভয়ের কারণ হওয়া উচিত নয়। সঠিক ও স্বচ্ছ চিকিৎসা তথ্য জানা রোগীর মৌলিক অধিকার। এটা সরকারকেই নিশ্চিৎ করতে হবে। এজন্য তিনি সরকারকে হাসপাতালটিতে আরও নজরদারি বাড়ানোর আহবান জানান একইসাথে ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।