বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, রোজার আগেই এলপিজি সংকট কাটাতে ইরানের বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানি অব্যাহত রাখবে। আশাকরি সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাকে পৌঁছে দিতে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, বাজারে সরবরাহ সংকট হলে এলপিজির দাম বাড়বেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এলপিজির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় সংকটের বিষয়টি সরকার আগাম আঁচ করতে পারেনি।
এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দেশের বাজারে চলমান সংকট ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনটি শর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানের কাছে এই অনুমোদনের চিঠি পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শাহিনা আক্তার চিঠিতে সই করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সঙ্গে আলোচনা করে আগ্রহী অপারেটরদের তালিকা প্রস্তুত, আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি এবং খালাস ও বণ্টনপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা। এসব বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।
এ ছাড়া এর আগে ১০ জানুয়ারি এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহঘাটতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলো।
তবে আমদানির অনুমোদন মিললেও বোতলজাতকরণ ও সরবরাহের নিজস্ব সক্ষমতা না থাকায় বিপিসি সরাসরি ভোক্তার কাছে এলপিজি বিক্রি করতে পারবে না। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে বিপিসির সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বিপিসির তালিকাভুক্ত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ক্রয়বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি আমদানি করা বাল্ক এলপিজি কেবল অনুমোদিত অপারেটরদের কাছেই সরবরাহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিপিসি কোনো ধরনের বোতলজাতকরণ কার্যক্রমে যুক্ত হবে না। বাল্ক এলপিজি বলতে বড় ট্যাংক বা জাহাজে আনা এলপিজিকে বোঝায়। এই এলপিজি পরে বেসরকারি অপারেটররা নিজেদের টার্মিনালে বোতলজাত করে বাজারে ছাড়েন।
বিপিসির পরিচালক এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, আমরা শর্ত অনুযায়ী আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। কে কতটুকু এলপিজি নিতে আগ্রহী, তার তালিকা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বর্তমানে জাহাজের সংকট চলছে, জাহাজভাড়াও বেশি। এসব কারণে আমদানি করতে অন্তত দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে বিপিসিকে ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে বোতলজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নতুন অবকাঠামো ও প্ল্যান্ট স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।