• যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় ইরান
  • সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার বন্ধ
  • নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলা

আল-জাজিরা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা করার পর থেকে বিভিন্ন দেশে ৬০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ইরানেই নিহত হয়েছেন ৫৫৫।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫ জনের দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী তেহরানের নিলুফার স্কয়ারে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়। হামলায় গান্ধী হাসপাতাল ও একটি পুলিশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত বেড়ে প্রায় ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে ১০ জন, সিরিয়ায় ৪ জন, ইরাকে দুইজন, লেবাননে ৩১ জন, কুয়েতে ১ জন, আরব আমিরাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি এবং দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হাসান খোমেনি দেশবাসীকে রাস্তায় ও মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তিনি বলেছেন, এক মুহূর্তের জন্যও রাস্তা ও মসজিদ ত্যাগ করবেন না। আমাদের শক্তি, জনগণের হৃদয় এবং জনগণের উপস্থিতিই আমাদের এখানে টিকিয়ে রেখেছে।

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানে নিহত ৫৫৫

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেক এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান।

এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

কুয়েতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে বহুমূল্যবান মার্কিন এফ-১৫ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ-১৬ বলেও ধারণা করেছেন।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই, ইউকে ডিফেন্স জার্নালসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েতে একটি সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি একটি এফ–১৫। তবে দুই পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। মিডল ইস্ট আইকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাইলটরা আমেরিকান বা ইসরাইলি হতে পারেন। তবে ক্রুদের জাতীয়তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন এবং এফ-১৫ ঈগল মার্কিন বিমানবাহিনীর দুই ভিন্ন ঘরানার শক্তি, যাদের মূলত ‘হাই-লো’ রণকৌশলের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এফ-১৬ হলো একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট সাশ্রয়ী বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশযুদ্ধ থেকে শুরু করে মাটিতে নিখুঁত হামলায় পারদর্শী। এর বিশেষত্ব হলো এর ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ কন্ট্রোল সিস্টেম এবং পাইলটের জন্য ৩৬০ ডিগ্রি দেখার সুবিধাসম্পন্ন বাবল ক্যানোপি। ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার গতিবেগের এই যুদ্ধবিমান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার প্লেন।

অন্যদিকে, এফ-১৫ ঈগল হলো আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য তৈরি একটি বিশালাকার ও দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এটি এফ-১৬-এর তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে এবং প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৫৫ কিলোমিটারের বেশি এবং আকাশযুদ্ধে এর সাফল্যের রেকর্ড এখন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

দামের ক্ষেত্রেও এই দুটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এফ-১৬-এর সর্বাধুনিক ‘ব্লক ৭০/৭২’ ভ্যারিয়েন্টের প্রতি ইউনিটের দাম বর্তমানে প্রায় ৬৩ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। বিপরীতে, এফ-১৫-এর আধুনিকতম সংস্করণ ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল ২’—এর দাম আকাশচুম্বী, যা প্রতি ইউনিটে প্রায় ৯৪ থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

মূলত নির্মাণশৈলী, রাডার প্রযুক্তি এবং অস্ত্র বহনের ক্ষমতার কারণেই এই দুই বিমানের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যে এত তফাত দেখা যায়। লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এফ-১৬ যেখানে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী সমাধান, এফ-১৫ সেখানে আকাশযুদ্ধের এক চূড়ান্ত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র।

কুয়েতে আল-সালেম মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

মিডল ইস্ট আই, এএফপি : কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আলী আল-সালেমে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

সোমবার ইরানের সেনাবাহিনী এই দাবি করেছে। একইসঙ্গে ভারত মহাসাগরে চলাচলকারী নৌযানেও হামলা করার কথা জানিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “সেনাবাহিনীর স্থল ও নৌ ক্ষেপণাস্ত্র দলগুলো আলাদা আলাদা অবস্থান থেকে কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটি আলী আল-সালেম এবং ভারত মহাসাগরের উত্তরে শত্রু জাহাজগুলোকে নিশানা করেছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থে হামলা করছে ইরানি বাহিনী।

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ বাড়ির মো. তারেক (৪৮) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. তারেক দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। তিনি সর্বশেষ দেড় বছর আগে বাহারাইন গেছেন। তার এক মেয়ে রয়েছে। তার এ মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত নিহতের ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোশারফ হোসেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার বন্ধ করল সৌদি আরব

আল-জাজিরা : সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ড্রোন হামলার পর রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ করেছে, বিষয়টি জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তেহরান যে প্রত্যাঘাত শুরু করেছে, এটি তার তৃতীয় দিন।

রাস তানুরা কমপ্লেক্স সৌদি আরবের উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শোধনাগারগুলোর একটি রয়েছে। প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করার সক্ষমতা আছে। এটি সৌদি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সূত্র জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিতে বলেন, দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে ছোট আগুন লাগে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাস তানুরা বন্ধ হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল চলাচল করে। সেখানে জাহাজে হামলার পর চলাচল প্রায় থেমে গেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সল্টভেডট বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারতে হামলা বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামো এখন সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলা সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।’

আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আগে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক অয়েল ফ্যাসিলিটি ও খুরাইস অয়েল ফিল্ডে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। তখন দেশটির অর্ধেকের বেশি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়।

উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ, ৩৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিনে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, শারজাহ, আবুধাবি এবং দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনালসহ এই অঞ্চলের অন্তত ছয় থেকে সাতটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর এই বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগকারী প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে এই ‘হাব’গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা অনেকটা ‘ডমিনো ইফেক্টে’র মতো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় হাজার হাজার যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে হামাদ, দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দরে আটকেপড়া যাত্রীদের হাহাকার ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পুনরায় বুকিং করা, হোটেলের ভাউচার সংগ্রহ বা সামান্য সহায়তার জন্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেককে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরেই রাত কাটাতে দেখা গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ এই অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার বন্ধ করল সৌদি আরব

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ড্রোন হামলার পর রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ করেছে, বিষয়টি জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তেহরান যে প্রত্যাঘাত শুরু করেছে, এটি তার তৃতীয় দিন।

রাস তানুরা কমপ্লেক্স সৌদি আরবের উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শোধনাগারগুলোর একটি রয়েছে। প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করার সক্ষমতা আছে। এটি সৌদি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সূত্র জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিতে বলেন, দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে ছোট আগুন লাগে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাস তানুরা বন্ধ হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল চলাচল করে। সেখানে জাহাজে হামলার পর চলাচল প্রায় থেমে গেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সল্টভেডট বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারতে হামলা বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামো এখন সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলা সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।’

আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আগে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক অয়েল ফ্যাসিলিটি ও খুরাইস অয়েল ফিল্ডে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। তখন দেশটির অর্ধেকের বেশি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা নয়: আলী লারিজানি

এপি, আল-জাজিরা : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনায় বসবে না ইরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি লিখেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা করব না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, খামেনি নিহত হওয়ার পর ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন লারিজানি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সেই দাবিকেই এবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা

সৌদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা, উৎপাদন সাময়িক বন্ধ

নিউ ইয়র্ক টাইমস : সৌদি আরবের রাস তানুয়া তেল শোধনাগারে সোমবার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ওই শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-তে এক সামরিক মুখপাত্র এই ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মূলত সাবধানতা অবলম্বন করতেই শোধনাগারটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর ওই এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উড়ছে। সামরিক বাহিনী ড্রোনগুলো সফলভাবে প্রতিহত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে এবং ভূমিতে থাকা ব্যক্তিদের আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

দাম্মামের কাছে অবস্থিত রাস তানুয়া শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে প্রতিদিন ৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে।

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৩১

এপি : লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ইরানপন্থি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালায় ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি এই হামলায় আরও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ এবং ইসরাইলের এই পাল্টা হামলা সেই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করলো।

কুয়েতে বিধ্বস্ত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান

আনাদোলু এজেন্সি, এপি : কুয়েতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পাইলটই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ঠিক কী কারণে এই বিমানগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, যখন কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের তীব্র হামলার ঘটনা ঘটছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিপর্যস্ত বৈশ্বিক বিমান চলাচল, বাতিল হাজার হাজার ফ্লাইট

এপি, রয়টার্স : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো গত দুই দিন ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনে নিহত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুবাই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আবুধাবি ও কুয়েত বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এমিরেটস আগামী সোমবার পর্যন্ত দুবাই থেকে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। কাতার এয়ারওয়েজও তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। জার্মানির লুফথানসা আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলের সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের আকাশপথে কোনও বিমান চলাচল করছে না। ইরানের আকাশসীমা ৩ মার্চ সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা থাকলেও পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি, নেপালের কাঠমান্ডু ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি, মুম্বাই ও অমৃতসর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

বিমান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।