প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তাও আবার পোস্টাল ব্যালটে। অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। প্রবাসীরা ভোট দিয়ে তা ফেরত পাঠাতে হবে নির্বাচনের আগে। এসব ভোট নির্বাচনের দিন রির্টানিং অফিসার গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করবেন। এ ভোট নিয়ে চ্যালেঞ্জে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। সময় মতো ব্যালট পেপার পৌঁছানো, নিয়ম মতো ভোট প্রদান এবং সময় মতো ফিরে আসাটাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। ফিরতে বিলম্ব হলে সেই ভোট গণনার সুযোগ থাকবে না। আর ভোটদান পদ্ধতিতে ভুল করলে তা বাতিল হবে। সাধারণ ব্যালটের সাথে গণভোটের জন্য আরো একটি রঙ্গিন ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট দিতে হবে। সেটিও এবার প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ইসি। সবমিলিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ উত্তরণ করতে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করতে পারলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যেত। এখন কত পার্সেন্ট প্রবাসী নিবন্ধন করলো এবং কত পার্সেন্ট ভোট দিল সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আর প্রবাসীদের মাঝে ভোট নিয়ে ক্যাম্পেইন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ।
সূত্রমতে, প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদেরকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ জন্য জনপ্রতি প্রায় সাতশ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৯জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসী রয়েছেন। ১৫১টি দেশে নিবন্ধন চলছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নিবন্ধনের কার্যক্রম চলতে থাকবে।
নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ২৭ নম্বর ধারার ১(এ) থেকে ১(ডি) পর্যন্ত উপধারায় পোস্টাল ভোটারদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ অনুযায়ী চার শ্রেণির নাগরিক পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সরকারি কর্মচারী: যেসব সরকারি কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থান করেন। কারাবন্দি: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা বা কারান্তরীণ ব্যক্তি। নির্বাচনী কর্মকর্তা: নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রবাসী: বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে সাংবাদিকরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করলেও সাংবাদিকরা পোস্টাল ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
ইসি সূত্র আরো জানায়, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেয়া খোদ ইসি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মনে করছে। কেননা সঠিক সময়ে ব্যালট পৌঁছানো এবং ফেরত আনা, সংরক্ষন করা, এছাড়াও প্রবাসীদের একটি অংশ কম শিক্ষিত, তারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ভোট দিতে ভুল করলে ব্যালট বাতিল হবে। এছাড়াও প্রযুক্তিগত বেশকিছু বিষয় রয়েছে। পোস্টাল ভোটটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসীদের ভোটকে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই ডাক ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ নির্বাচন শুরুর ৫৯ দিন আগে থেকেই প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে ইসি। দুবাইয়ের মতো কিছু দেশে দেড় মাস আগেই ব্যালট পাঠানো হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হবে। এরপর ভোট দিয়ে নিকটস্থ পোস্ট বক্সে ফেলতে হবে। নির্বাচনের অন্তত ১৭ দিন আগে পোস্টাল ভোট পাঠিয়ে দিতে হবে, না হলে নির্বাচনের পর ভোট পৌঁছাতে পারেÑসেক্ষেত্রে ভোটটি গ্রহণ করা যাবে না। যেদিন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে, সেদিনই ভোট দিতে হবেÑএর আগে নয়। ভোটারদের সেই সময় পর্যন্ত ব্যালট সংরক্ষণ করতে হবে।
এদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, প্রবাসীদের ভোট নেয়া এটি বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। আর পাইলটিং করতে পারলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যেত। এখন চ্যালেঞ্জগুলো মধ্যে অন্যতম হলো, কত পার্সেন্ট ভোটার নিবন্ধন করলো, আবার নিবন্ধনের পর কত পার্সেন্ট ভোট প্রদান করলেন। আর ভোট দেয়ার পর ফিরতি খামে সময় মতো পাঠানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক প্রবাসীকে ভোট দান প্রক্রিয়া শেখার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য প্রবাসীদের মাঝে ভালোভাবে ক্যাম্পেইন করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।
পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি
নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী ভোটার যে দেশ থেকে ভোট দিতে ইচ্ছুক, কেবলমাত্র সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তি এবং ভোট দেওয়ার জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।
ব্যবহারকারী বাংলা অথবা ইংরেজি যেকোনো একটি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আবেদনকারী ভোটার নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করবেন। ওটিপি, লাইভলিনেস ও এনআইডি যাচাইপূর্বক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিদেশে ব্যালটপ্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে নির্ভুল ঠিকানা দেওয়া আবশ্যক।
পোস্টাল ব্যালটে যেভাবে ভোটগ্রহণ
পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধিত সব ভোটারের কাছে পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটাররা তাদের ঠিকানায় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো পোস্টাল ব্যালটসহ খাম পাবেন।
খাম পাওয়ার পরপরই ভোটাররা পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের ওপর থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করবেন। এতে তিনি যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে।
ভোটাররা নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া বহির্গামী খামে একটি পোস্টাল ব্যালট সম্বলিত খামের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পেপার, একপাশে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা, অপর পাশে একটি ঘোষণাপত্র সংবলিত একটি পৃথক কাগজ এবং একটি ফেরত খাম পাবেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত থাকবে।
ব্যালট পেপারে সব প্রতীক মুদ্রিত থাকবে যার প্রতিটি প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে। ভোট দেওয়ার আগে ভোটাররা নির্দেশনাপত্র পড়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে ব্যালট পেপারের ক্রমিক নং, ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে সই করবেন।
নিরক্ষর অথবা অক্ষম ব্যক্তি অন্য একজন বৈধ ভোটারের সাহায্যে ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট অংশ পুরণের পর সত্যয়ন করে সই করবেন। এই ঘোষণাপত্র বাঁ সত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া ব্যালট পেপারটি বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। আর প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হলে অ্যাপের মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটাররা জানতে পারবেন।
ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা অ্যাপে লগইন করে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন এবং নির্দেশিকাতে প্রদত্ত পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারে মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক কিংবা ক্রস চিহ্ন দেবেন। ভোট দেওয়ার পদ্ধতির ভিডিও টিউটোরিয়াল বা ডিজিটাল কন্টেন্ট থাকবে অ্যাপে।
গনভোট দেয়ার জন্য রঙ্গিন কাগজে আরেকটি পোস্টাল ব্যালট পেপার থাকবে। সেটিতে হ্যাঁ অথবা না অংশে টিক অথবা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোটার ভোট চিহ্নিত করার পর শুধুমাত্র ব্যালট পেপারটি ছোট খামে রেখে খামটি বন্ধ করবেন। এরপর এই ব্যালট পেপার সংবলিত খামটি এবং সই করা ঘোষণপত্রটি রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত খামে প্রবেশ করিয়ে বন্ধ করতে হবে। এরপর খামটি ডাকযোগে দ্রুত পাঠাতে হবে।
উভয় খামই সেলফ অ্যাডহেসিভযুক্ত থাকবে। ফলে সেলফ অ্যাডহেসিভ অংশের উপরিভাগের টেপটি খুলে নিলেই খাম বন্ধ হবে। খামটি পাঠানোর জন্য কোনো ডাক মাশুল প্রেরককে দিতে হবে না। পোস্টাল ভোট গণনা শুরু করার আগ পর্যন্ত প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপারগুলোই কেবল গণনার আওতায় আসবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পোস্টাল ব্যালট ভোটারের কাছে পাঠানোর পর থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত আসা পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যালটের অবস্থান মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি গণনাকক্ষ প্রস্তুত করা হবে। পোস্টাল ভোট গণনার সময় প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, প্রার্থীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকরা অন্যান্য কেন্দ্রের মতো একই নীতিমালা অনুসরণ করে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলে অন্যান্য সাধারণ কেন্দ্রের মতো পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ঘোষণা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলের সঙ্গে এক করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব এক না করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা যাবে না।
ভোট দিয়ে যেভাবে পাঠাবেন ব্যালট
পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় পাঠানো ব্যালট পেপারে সব প্রতীক ছাপানো থাকবে। আর প্রতিটি প্রতীকের পাশে থাকবে ফাঁকা ঘর। ভোট দেয়ার আগে ভোটাররা নির্দেশনাপত্র পড়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করবেন।
নিরক্ষর/অক্ষম ব্যক্তি অন্য একজন বৈধ ভোটারের সাহায্যে সংশ্লিষ্ট অংশ পূরণ করে সত্যয়ন করবেন। এই ঘোষণাপত্র/সত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া ব্যালট পেপারটি বৈধ হিসাবে গণ্য হবে না।
প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপের মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটাররা বিষয়টি জানতে পারবেন। ভোট দেয়ার জন্য ভোটাররা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন এবং নির্দেশিকাতে প্রদত্ত পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারে (ফরম-৭) মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক (√) চিহ্ন কিংবা ক্রস (ী) চিহ্ন দেবেন।
পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোটার ভোট চিহ্নিত করার পর শুধুমাত্র ব্যালট পেপারটি ছোট খামে রেখে সেটি বন্ধ করবেন। পরে ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা ছাপানো খামে প্রবেশ করাতে হবে। পরে তা বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তার পোস্টাল ব্যালটটি ট্র্যাকও করতে পারবেন।
পোস্টাল ব্যালট যেভাবে সংরক্ষণ হবে
রিটার্নিং অফিসার ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খাম পাওয়ার পর তার ওপর দেয়া কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে রেকর্ড রাখবেন। এক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার গণনার জন্য পাওয়া খাম খুলে প্রথমেই ঘোষণাপত্র যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করবেন। যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত না থাকলে এর সঙ্গে পাওয়া ব্যালট পেপারটি বাতিল হিসেবে সংরক্ষণ করবেন। তবে যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র সম্বলিত ব্যালটের খাম গণনার জন্য আলাদা বক্সে সংরক্ষণ হবে।
পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি গণনা কক্ষ থাকবে। এ সময় প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/প্রার্থীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকগণ অন্যান্য কেন্দ্রের মতো একই নীতিমালা অনুসরণে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোট দেয়ার জন্য ডেভেলপ করা সফটওয়্যারে লগইন করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেয়া ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে ও জানতে পারবেন।
সময়ের পর পাওয়া ব্যালটের কী হবে
সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটসমূহ রিটার্নিং অফিসার/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখসহ সংরক্ষণ করবেন। ওই সংখ্যা পরে প্রকাশ করতে হবে। এটি ভোট হিসেবে গৃহীত হবে না।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পাওয়া ভোটের হিসাব একীভূত না করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রবাসীর সংখ্যা কত
২০২৩ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী সোয়া কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) যদিও বলছে, সংখ্যাটা ১ কোটি ৪৮ লাখের বেশি। আর একাদশ সংসদের তথ্যমতে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন ১ কোটি ৫৫ লাখ।