আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের দাবির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম বলেছেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।

গতকাল সোমবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিন ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা হলো- ১.জুলাই আগস্টের মামলায় যাতে কোনো অপরাধী জামিন, অব্যহতি বা খালাস না পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ২. জুলাই হত্যাকাণ্ডকে যারা ফ্যাসিলিটেড করেছে সেই সব ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে প্রসিকিউশনের বিচারিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ৩. সারা দেশে জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের তদন্তের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ তদন্ত টিম ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

এর আগে দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামিকে জামিন দেয়ার ইস্যুতে প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে বৈঠক করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদল।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচারে আমরা কেউই কোনো ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করবো না। করার কোনো সুযোগও নেই। কারণ এ দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। এটা যুগে যুগে নয়, শতাব্দীতে এক-দুবার হয়। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পর আবার নতুন করে পুনর্নির্মাণ করার একটা সুযোগ আমাদের দিয়ে গেছেন ১৪০০ শহীদ। তাই এর অপব্যবহার করলে আমরা দায়ী থেকে যাবো।

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র দুটি ট্রাইব্যুনালে ৬৪ জেলায় সংঘটিত গণহত্যার বিচার হচ্ছে। একটি প্রসিকিউশন টিম ও একটি তদন্ত সংস্থা। এরপরও আমরা প্রায় দুই শতাধিক আসামির বিচার শুরু করতে পেরেছি। কতদূর শেষ করে যেতে পারবো জানি না। কিন্তু চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে এই বিচারের সহায়তার জন্য প্রসিকিউশন টিমের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন; এ নিয়ে তামিম বলেন, তারা আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসুক। আমরা অতি দ্রুত এ অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে একটা অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবো। তাদের বিচার শুরু করতে পারবো বলে আমরা আশা পোষণ করছি।

বৈছাআ'র তিন দফা দাবি নিয়ে এই প্রসিকিউটর বলেন, তাদের তিন দফা দাবির একটি হলো বিচারটাকে ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ তদন্ত টিম ও একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তারা আমাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তবে বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করাটা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই দাবিটি শিগগিরই সরকারের কাছে পৌঁছে দেবো। শেষ পদক্ষেপটা সরকার খুব দ্রুত নেবে বলে আমরা আশা করছি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ১১ জানুয়ারি আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ জামিন মঞ্জুর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দেড় বছরে রোববার প্রথম একজন আসামি জামিন পেয়েছেন। আদালত জামিন দিতে পারেন। এটা দেশের অন্যান্য আইনেও আছে, আমাদের আইনেও আছে। জামিন সাধারণত দুটি কারণে দেওয়া হয়। একটি হলো মামলায় যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকে অথবা অভিযোগটা স্পেসিফিক না হয়। রোববার শুধুমাত্র মানবিক কারণে জামিন দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল যখন জামিন দেন, তখন প্রসিকিউশন এ ব্যাপারে বলেছেন যে, এ আসামি আগেও দুবার জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু নামঞ্জুর হয়েছে। তৃতীয়বার কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালকে তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। তা জমা দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আসামি বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত। আর এটি দেখেই মানবিক কারণে ট্রাইব্যুনাল জামিন দিতে চাইলে আমরা কিছু শর্ত আরোপের প্রার্থনা করেছি। পরে সেসব শর্ত আরোপ করে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।