দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে অধ্যয়নরত প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) এ আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মেডিকেলে অধ্যয়নরত প্রথম বর্ষের প্রায় সাড়ে ৯০০ শিক্ষার্থী।
ছাত্রশিবির মেডিকেল জোন শাখার সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) মুহা. আবু সাদিক (কায়েম) এবং বিএমইউর রেসিডেন্ট (এমএস, অর্থোপেডিক্স) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।
মেডিকেল জোনের সেক্রেটারি ডা. জুলফিকার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমা (রিফাত)। অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত মাহবুব।
ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষে ইন্টিগ্রেটেড উপায়ে এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের সময় একটা টপিকের ওপর হয়তো অ্যানাটমি পড়লাম, আরেকটা টপিকে ফিজিওলজি, আবার আরেকটা টপিকের ওপর বায়োকেমিস্ট্রি। কোনো কো-রিলেশেন করতে পারতাম না, কষ্ট হতো। এখন প্রতিটি মেডিকেল ইনস্টিটিউটে কারিকুলামের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে তোমরা খুবই বেনিফিটেড হবে।' তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক চিকিৎসক হওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের বলেন, ছাত্রলীগের বৈষম্যের কারণে হলে সিট পাওয়া দুষ্কর ছিল। ছাত্রলীগ নেতারা হলে একটি রুম দখল করে রাখতো। অন্যদিকে পাঁচজনের জন্য বরাদ্দ করা একটি রুমে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীকে থাকতে বাধ্য করা হতো।
সভাপতির বক্তব্যে মেডিকেল জোন শাখার সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদ বলেন, ‘নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও আগে করতে পারলে বেশি ভালো হতো।
ডা. জায়েদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে হলে থাকার বিনিময়ে একজন শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে খাটানোর সংস্কৃতি ছিল। ওই সময় মানসিক চাপের সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়াতে বাধ্য করা হতো। পাঁচ আগস্টের পর এই দুঃশাসনের অবসান ঘটেছে।
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাবির ভাই-বোনদের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছিলেন ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রশিবিরের চিকিসকরা। অসীম সাহসিকতায় আহতদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় ছাত্রলীগ চিকিৎসা নিতেও বাঁধা দিয়েছে। তারা ইসরায়েলি ইহুদিদের অনুসরণে ঢাকা মেডিকেলে হামলাও চালিয়েছে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, কেবল বাড়ি গাড়ি করার চিন্তা করলে এটা প্রশান্তি নয়, অশান্তির কারণ হবে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে দেশের মেডিকেল খাত অন্যতম বড় দুর্নীতিগ্রস্ত খাত। এটা ভেঙে ফেলতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।