- পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত
- ১২ সিটির সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার সকালে রাজধানী থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরের রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকাল ৯টায় বিমান যোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছাবেন। সেখান থেকে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে পৌঁছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড় নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
আব্দুল গফুর সরকার আরও জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরে সাহাপাড়-বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু খনন নয়, খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। গতকাল রোববার কৃষক কার্ডবিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, সকালে সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড বিষয়ক বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সারা দেশে কৃষকদের সহযোগিতা করতে কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। আজ ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর’ উপলক্ষে গতকাল রোবাবার দেয়া এক বাণীতে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এই কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাইলাতুল কদর মহিমামন্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহতাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষণ করেন এবং দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনসমূহের প্রশাসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।