যশোরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা, হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃত্ব। শুক্রবার (১৩ফেব্রুয়ারি) যশোরে আয়োজিত প্রেসক্লাব যশোরের অডিটোরিয়মে এক জরুরি সাংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আজিজুর রহমান, ডা. মসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অধ্যাপক গোলাম রসুল, এডভোকেট গাজী এনামুল হক, অধ্যাপক মুখতার আলী, এবং অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকসহ অন্যান্য নেতা।

নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগেই যশোরের বিভিন্ন স্থানে মহিলা ভোটকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আর নির্বাচনের পরপরই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের পাঁচটি আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের পর তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর সংগঠিতভাবে হামলা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে ঝিকরগাছা, শার্শা, চৌগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, নারী নির্যাতন এবং মৃত্যু-হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নের বাইসা এলাকায় জামায়াতের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। শার্শার বেলতা গ্রামে নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকার কারণে একাধিক কর্মীর ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসাধীন।

চৌগাছার জগদীশপুর ইউনিয়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জামায়াত সমর্থন করায় তাদের অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও নেতারা দাবি করেন। ফুলসারা ইউনিয়ন ও আশপাশের গ্রামে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, নারী নির্যাতন ও আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি সমর্থিত হামলাকারীরা এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করছে, যার ফলে শতাধিক কর্মী-সমর্থক এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি এক প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতারা বলেন, নির্বাচনোত্তর প্রতিশোধমূলক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রে কেউ জিতবে, কেউ হারবে তাই বলে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা অগণতান্ত্রিক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তারা দ্রুত সহিংসতার অবসান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।