অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বছর ছিল ২০২৫ সাল, যদিও কাগজে কলমের হিসেবে সরকারের সময়কাল প্রায় দেড় বছর। গত এক বছরে ভারত ও মিয়ানমার বাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরেপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলো, পাকিস্তান, আরব দেশগুলো, তুরস্ক, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে কূটনীতিতে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০২৫ সালের পুরো বছরজুড়ে ভারতীয় ভিসা ছিল কার্যত বন্ধ, বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা ও ভারতের মাদক আগ্রাসন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেটেছে নানা টানাপড়েনের মধ্যদিয়ে। বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে গত ৫৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা দিল্লি হাইকমিশনে, কলকাতা-আগরতলা উপহাইকমিশনে এবং শিলিগুড়িতে ভিসা সেন্টারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেয়। এরফলে ভারতে বাংলাদেশের সব ভিসা সেন্টার বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নজিরবিহীন ভাবে গত এক বছর বাংলাদেশ ও ভারতের হাইকমিশনারদেরকে দফায় দফায় তলব করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে এ সরকারের স্বীকৃতি আদায় ও গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য করে তোলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ঋণ সহায়তা অক্ষুন্ন রাখা, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন নতুন শ্রম বাজার তৈরি করা এবং বিদেশি সহযোগিতায় চলমান ছোট-বড় প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখাও ছিল অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, বিনিয়োগে বিদেশিদের আকর্ষণ করা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ভালোভাবেই বর্তমান সরকার করেছে। যেমন: কোনো লবিং ফার্ম ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, নতুন বৈদেশিকনীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে, নতুন শ্রম আইন তৈরী, মালয়শিয়ায় নতুন শ্রম বাজার সৃষ্টি, চীন-জাপানের সম্পর্ক জোরদার করে প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা পাওয়া, নতুন বিনিয়োগ আনা, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক জোরদার করা। এ ছাড়া এ সরকার বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, তিউনিসিয়া এবং সার্বিয়ার সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও বন্ধুত্ব পুনঃস্থাপন করেছে। আফ্রিকার রুয়ান্ডা, ঘানা এবং কেনিয়ায় নতুন ট্রেড মিশন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলেও সরকারের প্রকৃত কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী অনিশ্চয়তার পটভূমিতে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে ছিল তিনটি অগ্রাধিকারভিত্তিক দায়িত্ব। যেমন: একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা। এ সময় বিশ্ব রাজনীতিতে বহু পরিবর্তন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য প্রতিযোগিতা, বৈশ্বীক মুদ্রাস্ফীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে সরকারকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, গত এক বছরে সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে মোটাদাগে অনেক বিষয় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকলাপ ছিল অনেকটাই সমন্বয়হীনতায় পরিপূর্ণ। স্বয়ং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তাঁকে পাশ কাটিয়ে অনেককিছুই নিয়ন্ত্রণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের ইস্যূতে অনেক দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বেই একটা ফলাফল এসেছে। নিজের মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার তৌহিদ হোসেনের তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না বললেই চলে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা: জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে বর্তমান সরকার ভালো সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন। এছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখাও ছিল একটি বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকার সফল হয়েছে। এ বছর নতুন দুটি মিশনে (ডিআর কঙ্গো ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) ৪ হাজার ২০০ শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের স্ট্যান্ডিং অর্ডার রিভিউতে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন অবদানকারী দেশের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ‘পিস ক্যাম্প অ্যানুয়াল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। চীনের মধ্যস্থতায় পুনর্বাসনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা তহবিলে ২০ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেওয়ার পাঁচ মাস পরও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। গত পাঁচ মাসে মিয়ানমারের জান্তা সরকার আরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে বলপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়েছে। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে এই প্রক্রিয়া এখন ঝুলে রয়েছে। ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি বিশেষ সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা, আন্তর্জাতিক শরণার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার: কূটনৈতিক আরেকটি সাফল্য হলো মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার আবার উন্মুক্তকরণ। মে মাসে মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার আংশিকভাবে খুলে দেয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন, টুরিজম, পরিষেবা এবং কৃষি খাতে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট’ চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানব পাচারবিরোধী কমিটিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়ার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বোয়েসেল নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনশক্তি পাঠাতে পারেনি। ১১ আগষ্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফর করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার বৈঠকে জনশক্তি রফতানি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যনীতিতে সফলতা: কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যনীতিতে সফলতা। এটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য বিবেচনা করা হলেও আগে-পিছে কোথাও ছিলেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে, যেখানে ভারত পেয়েছে ২৫ এবং পাকিস্তান ১৯ শতাংশ। এর ফলে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ১ মাসে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার বৃদ্ধি পেয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবীর মনে করেন, এক বছরে এটি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। অনেক বড় দেশও এ ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। ‘লিগ্যাল স্ট্যান্ডিং অব ডেমোক্রেসি ট্রানজিশন’ শীর্ষক বিশেষ বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়। ধারাবাহিক আলোচনার ফলে বাংলাদেশ পাল্টা শুল্কে সুবিধা পেয়েছে।

নতুন সংকটে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারের কিছু কূটনৈতিক ব্যর্থতাও রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো ভারতের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় সফর হয়নি। তিস্তা ব্যারাজ ও সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হয়নি, বাণিজ্য ও ভিসা চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বরং ভিসা ও বাণিজ্য একরকম বন্ধ ছিল। এছাড়াও বর্তমানে জুলাই গণহত্যার অভিযোগে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও দিল্লিতে দুই দেশের হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ডে ভারতের হাত রয়েছে এবং হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে এমন প্রচার হওয়ার পর থেকে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ‘অখ- হিন্দু রাষ্ট্র সেনার’ ব্যানারে উগ্র হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের বিক্ষোভ করে হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী তিনটি সংগঠন। এরপর ভিসা কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত ভিসা ও সব ধরনের কনস্যুলার সেবা স্থগিত থাকবে। পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দুই মিশন ভিসা সেবা বন্ধের কথা জানায়। এছাড়াও দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মম হত্যাকা-কে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে দেখাতে চাইছে ভারত।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ২২ ডিসেম্বর রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেয়। এদিকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকা-, গণপিটুনি, নির্বিচার আটক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, গত সপ্তাহে বড়দিন উদযাপনকালে ভারতজুড়ে খ্রিষ্টানদের ওপর সংঘটিত গণসহিংসতার বিষয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনেও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), কংগ্রেসের পাশাপাশি নাস্তিক মঞ্চ এবং অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট বিক্ষোভ করেছে।

‘বাংলাদেশী’ তকমায় ১ বছরে ২২০০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ভারত: ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে চলতি ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ২০০ জন ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র ১৪ জনকে এবং ২০২৩ সালে ৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াকে নজিরবিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক: আগস্টে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। দ্রুতই গলে যাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় দুই দেশের মাঝখানে জমে থাকা দীর্ঘদিনের বরফ। বর্তমানে দুই দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, ভিসা সুবিধাসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। স্বৈরাচারী তকমা পাওয়া পলাতক হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।