কোটি মানুষের অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযা শেষে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গতকাল বুধবার ৩টার দিকে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার লাশ স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। গত মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরআগে দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয় তার জানাযার নামায। জানাযায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে এত মানুষের সমাগম নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, কাতারের আলজাজিরা, তুরস্কের টিআরটি, ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি, মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা বার্নামা, ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, পাকিস্তানী ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন, পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও জিও নিউজ, চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়া, ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপি, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, ফরাসি সংবাদমাধ্যম লঁ মন্ত, অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি, মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, সিএনএন, ফক্স নিউজ, নিউইর্য়ক টাইমস, ভারতের পত্রিকা দ্য হিন্দুসহ বিশে^র অগণিত সংবাদমাধ্যম জানাযার নামায নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের হেডলাইনে এই জানাযা নিয়ে লিখেছে “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদার জানাযায় মানুষের শোক”। কাতারের আলজাজিরা লিখেছে, “শোকাহত বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাযায় বিপুল জনতার সমাগম।” আলজাজিরা আরও লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জানাযায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিশাল জনতা জড়ো হয়েছে, এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকাহতরা তাকে বিদায় জানাতে এসেছেন। ফুটেজে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে বিশাল জনতা ভিড় করছে, যেখানে গতকাল বুধবার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার কফিনটি একটি কনভয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তুরস্কের টিআরটি লিখেছে, “রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাল বাংলাদেশ।” ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি লিখেছে, “রাষ্ট্রীয় জানাযায় খালেদা জিয়ার জন্য বাংলাদেশের শোক।” মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা বার্নামা লিখেছে, “খালেদা জিয়ার জানাযায় লাখো মানুষ। স্বামীর পাশে সমাহিত।”

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই লিখেছে, “খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের জন্য ঢাকায় জড়ো হলো জনসমুদ্র।” পাকিস্তানি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন লিখেছে, “শোকাহতদের নেতৃত্বে তারেক রহমান। খালেদা জিয়াকে ঢাকায় দাফন।” ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপি লিখেছে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ।” বুধবার বাংলাদেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানিয়েছে। এই শেষ বিদায় বা জানাযা অনুষ্ঠানে বিপুল জনতা উপস্থিত ছিলেন। তারা এমন একজন উচ্চপদস্থ নেতার জন্য শোক করছেন, যার কর্মজীবন কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেছে।

আরেক পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস নিউজ তাদের শিরোনামে লিখেছে, “ঢাকায় খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে যোগ দিলেন দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, “একটি যুগের অবসান : নিজেদের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে সমাহিত করল বাংলাদেশ।” ফরাসি সংবাদমাধ্যম লঁ মন্ত লিখেছে, “খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় : হাজার হাজার মানুষ গেলো তার কফিনের পেছনে।” অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি শিরোনাম করেছে, “খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় : স্বামীর পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত।”

এক প্রতিবেদনে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাযায় বিশাল জনসমাগম হয়। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এনডিটিভির শিরোনামে বলা হয়, ঢাকায় স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর একদিন আগে ৮০ বছর বয়সে মারা যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাযায় অংশ নিতে বুধবার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরের এলাকায় বিপুল জনতা ভিড় জমায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর সময় অনেকেই কান্নাকাটি বেগম খালেদা জিয়াকে তাদের ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, কেউ কেউ গ্রামাঞ্চল থেকে রাতভর সফর করে জানাযায় যোগ দিয়েছিলেন। আশেপাশের এলাকাগুলোতেও জনতা জানাযার জন্য প্রধান প্রধান সড়কে নেমে আসে।

পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন ও জিও নিউজ খালেদা জিয়ার জানাযায় বিপুল পরিমাণ মানুষের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু তাদের খবরে শিরোনাম দিয়েছে, ‘কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাযা অনুষ্ঠিত; শোক প্রকাশ করেছেন জয়শঙ্কর।’ এনডিটিভির শিরোনাম ছিল, ‘স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।’