প্রিটোরিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার শাহ্ আহমেদ শফী জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হাকাইন্দে হিচিলেমার কাছে জাম্বিয়াতে বাংলাদেশের অনাবাসিক হাইকমিশনার হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রিটোরিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ, কানাডা, বেলারুশসহ মোট ৪টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানটি জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকাতে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার শাহ্ আহমেদ শফী বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও তা উন্নয়নের বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাম্বিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষকরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানি এবং বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবীদের কর্মের সুযোগ তৈরির জন্য জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি আহ্বান জানান। তিনি জাম্বিয়াতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে উভয় দেশই লাভবান হওয়ার বিষয়ে বলেন, এতে করে জাম্বিয়ার জনগণের ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং তারা এ শিল্পে দক্ষতা অর্জন করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাম্বিয়াতে পোশাক তৈরি করলে তা এগোয়ার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে। হাই কমিশনার বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার মধ্যে সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মাঝে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।

এ বছরের মধ্যে জাম্বিয়া থেকে বাংলাদেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছেন। এর আগে তিনি গত ১ এপ্রিল জাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন । রাষ্ট্রপতি হাকাইন্দে হিচিলেমা তার বক্তব্যে বলেন, জাম্বিয়া ওই অনুষ্ঠানে পরিচয়পত্র পেশকারী প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করে এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন জাম্বিয়ার পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী একদিকে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর ভিত্তি করে, তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধন আরও জোরদার করার জন্য নতুন স্বীকৃত হাই কমিশনার এবং রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। পরিশেষে তিনি যেসব দেশের দূতাবাস জাম্বিয়ায় নেই, সেসব দেশের দূতাবাস খোলার জন্য হাইকমিশনার এবং রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাম্বিয়ার কপার, লোহাসহ বিভিন্ন ধাতব খনিতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজ করতে চাইলে তিনি তাদের অভ্যর্থনা জানাবেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের পিভিসি জাতীয় প্লাস্টিক পণ্যের প্রশংসা করেছেন এবং সেগুলো জাম্বিয়ায় রপ্তানি করার বিষয়ে হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।