- ইসরাইলকে শাস্তি দেবে ইরান
- বর্বরোচিত হামলায় ২০৩ নিহত
- ইসরাইলের নিন্দায় স্পেন
- ট্রাম্পকে নতিস্বীকার করালো ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলী হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। লেবানন যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান আরো বলেছে, ইসরাইলের করা অপরাধ এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে দেশটি ইসরাইলকে শাস্তি দেবে। এদিকে লেবানন বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে বর্বর ইসরাইলের চালানো আগ্রাসনে শহীদের সংখ্যা ২০৩ এবং আহতের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি দাঁড়িয়েছে। এছাড়া স্পেন বর্বর ইসরাইলী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা তেহরানে নিজেদের দুতাবাস চালু করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পূর্ণাঙ্গ ও নিরঙ্কুশ বিজয় দাবি করলেও বিশ্লেষকগণ বলেছেন হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণই মূল বিজয় যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে। সিএনএন, বিবিসি, আল-জাজিরা, এএফপি, ফার্স নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই।
যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ লেবানন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলী হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর ফলে আলোচনাগুলো অর্থহীন হয়ে যাবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান লেবাননের জনগণের সঙ্গেই থাকবে।
এদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘লেবানন এবং সমগ্র প্রতিরোধ অক্ষ, ইরানের মিত্র হিসেবে যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে গিয়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাবে ইসরাইল। আল জাজিরা।
লেবাননে বুধবার ইসরাইলী হামলায় নিহত ২০৩, যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলছে ইরান
রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের অন্যান্য এলাকায় গত বুধবার ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার জন।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন এই তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘বুধবার লেবাননের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনে শহীদের সংখ্যা ২০৩ এবং আহতের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি।’
এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গতকাল ইসরাইলী হামলায় ১৮২ জন নিহত হয়েছেন। আহত ৮৯০ জন।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে চলমান ইসরাইলী হামলা তেহরান-ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’।
ইসরাইলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা
ইসরাইলী বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে উত্তর ইসরাইলের মানারা বসতিতে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। খবর আল-জাজিরার
টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর ইসরাইলী-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে ইসরাইলী সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী বিমান বাহিনী। দিনভর চলা এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ আহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে সৌদী-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সৌদীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। অঞ্চলের নিরাপত্তা-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানও জবাব দেয়। এর অংশ হিসেবে তারা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরান ও সৌদীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হলো।
লেবাননে ইসরাইলী হামলার নিন্দা স্পেনের, তেহরানে আবার দূতাবাস চালুর ঘোষণা
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত বুধবার লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে স্পেন। মাদ্রিদ এই সংঘাতকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এতে জড়িত যেকোনো উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
আলবারেস তার দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখেছি, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কীভাবে লেবাননে শত শত বোমা ফেলেছে।’
এর আগে আলবারেস ঘোষণা দেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় স্পেন তেহরানে নিজেদের দূতাবাস আবার চালু করবে।
আলবারেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমাদের রাষ্ট্রদূতকে তেহরানে ফিরে যেতে, আবার তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে এবং আমাদের দূতাবাস আবার চালু করতে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সম্ভাব্য সব দিক থেকে, এমনকি ইরানের রাজধানী থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা অংশ নিতে পারি।’
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে হামলা চালানোয় ইসরাইলকে ‘শাস্তি দেবে’ ইরান
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে চালানো ইসরাইলের হামলাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরাইলের করা অপরাধ এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে দেশটি ইসরাইলকে ‘শাস্তি দেবে’।
কর্মকর্তা বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইসরাইল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য পরিচিত, আর তাকে কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই নিবৃত্ত করা সম্ভব।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখে ট্রাম্পকে নতিস্বীকার করাল ইরান?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে ‘পূর্ণাঙ্গ ও নিরঙ্কুশ বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণই মূল ‘বিজয়’, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ খোলার ওপর যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। ফলে, তেহরান পরোক্ষভাবে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব নিশ্চিত করেছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সামান্থা গ্রস বলেছেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে ইরানের বেশি সামরিক শক্তির প্রয়োজন নেই।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, তেলের বৈশ্বিক বাজার এখনও অস্থির। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫-২০ শতাংশ কমেছে এবং ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ নিল শিয়ারিং বলছেন, ‘হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।’
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান ভূরাজনৈতিক কৌশলী ড্যান আলামারিউ মন্তব্য করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর কর্তৃত্বের মাধ্যমে ইরান একটি কার্যকর অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনা করছে।’ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানকে কৌশলগত প্রভাব ও চড়া দামে তেল বিক্রি করার সুবিধা দিয়েছে।
বর্তমানে ইরান দৈনিক গড়ে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে, যা মার্চ মাসে আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। চীনের বাজারে তারা ব্রেন্ট ক্রুডের চেয়ে ৩ ডলার বেশি এবং ভারতের বাজারে ব্যারেলপ্রতি ৭ ডলার বেশি দামে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এই জলপথের জন্য স্থায়ী ‘ট্রানজিট ফি’ বা মাশুল চালু হতে পারে। ইতোমধ্যে ইরান একটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পরিশোধ আদায় করেছে। কেপলার বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানি ও বিমাকারীরা এই ফি মেনে নিতে পারে, কারণ পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প পথ নেই।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ইরানের প্রস্তাবনাগুলো ‘আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের এই পরিস্থিতি বিশ্ব তেল ও গ্যাসের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে।
যেভাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতা পেল
দিন যত যাচ্ছে, ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টগুলো ততই লাগামছাড়া হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে আতঙ্ক দানা বাঁধতে থাকে। ইরানের ওপর বিনা উসকানির তার আক্রমণটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে তাকে।
ট্রাম্প একসময় ইরানিদের বলেছিলেন, তাদের সরকার ‘তাদের নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য’। এখন সেই একই মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন ইরানকে ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’। এই পরিবর্তন অনেক কিছু বলে দেয়।
হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্প হাজার হাজার মেরিন সেনা পাঠিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল প্রণালি জোর করে খুলে দেওয়া। কিন্তু এখন মার্কিন নৌবহর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে। ইরান নিজেই ঠিক করছে কোন জাহাজ যাবে, আর কোনটা যাবে না। প্রতিটি জাহাজকে এখন ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত চায়না ইউয়ানে টোল দিতে হচ্ছে।
ইসরাইলী সেনাপ্রধান এয়াল জামির এক মাস আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের ৮০ শতাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এখন নিয়মিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১৩ হাজারেরও বেশি বিমান হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে।
ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো ইরান ভেঙে পড়েনি। সেই দেশগুলোতে নেতা পালালেই বা মারা গেলেই সরকার ধসে পড়েছিল। কিন্তু ইরানের ব্যবস্থা আলাদা। মোসাদ ও সিআইএর অনুপ্রবেশ এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরও ইরানের কমান্ড ব্যবস্থা অটত আছে। মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নেয়া এ বছরের শুরুতে ইরানকে ‘সহজ লক্ষ্য’ মনে করেছিলেন। সেই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানের জনগণের ভেতরেও দ্বন্দ্ব আছে। একদিকে জানুয়ারির বিক্ষোভের স্মৃতি, অন্যদিকে ট্রাম্পের হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ। কিন্তু বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে ক্রোধটাই এখন বড় হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের ইরানি যোদ্ধাদের প্রতিরোধ মানুষকে উজ্জীবিত করছে।
বিশ্লেষক মোহাম্মদ এসলামি ও জেইনাব মালাকুতি লিখেছেন, ‘ট্রাম্প মনে করছেন তেহরান হরমুজকে যুদ্ধবিরতি বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই ধারণা ভুল হতে পারে। ইরান হরমুজকে যুদ্ধ শেষ করার হাতিয়ার নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে বলে মনে হচ্ছে।’
উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণ করতে নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু তার পরও তাদের তেল ও গ্যাস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেল ও বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। ট্রাম্প ও তার পরিবারের পেছনে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে তারা কিছুই পাননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ শেষে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। ট্রাম্প ‘বিজয়’ ঘোষণা করে চলে গেলেও ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। আর মিসরীয় বিপ্লবের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ এলবারাদেই বলেছেন, আরব বসন্ত মরে যায়নি, ঘুমিয়ে আছে। দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব, অবিচার ও দুর্নীতির বাস্তবতা এখন আগের চেয়েও বেশি স্পষ্ট। নেতানিয়াহু সারাজীবন ইরান আক্রমণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হতে গিয়ে আরব ও ইরানিদের ধনী ও গরিব, সুন্নি ও শিয়া সবাইকে এক কাতারে এনে দিয়েছে।