অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ ইসির

দেড় বছরে লুট হওয়া প্রায় দেড় হাজার অস্ত্র উদ্ধার হয়নি

খোঁজ মেলেনি দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি গুলীর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই মাথাব্যথা ছিল অন্তবর্তী সরকারের। এ কারণে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাতে বলা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। দুর্বৃত্তদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্ত দিয়েও ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র, এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) তৎপরতা বাড়ানো হয়। এরমাঝে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে সশস্ত্র বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেশজুড়ে চলমান অভিযানের মধ্যেই অবৈধ অস্ত্রধারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডে তোলপাড় শুরু হয়। ফলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের ঠেকাতে না পারায় উদ্বেগ বেড়েই চলছে।

বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদীকে প্রকাশ্যে গুলী করে হত্যার ঘটনায় দেশবিদেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়। সেই অবৈধ অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহীদ ওসমান বিন হাদি ছাড়াও পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির আরো কয়েকজন নেতাকে গুলী করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরই মাঝে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সশস্ত্র বাহিনীসহ ১৬টি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বয়, নজরদারি ও মনিটরিং সংক্রান্ত একাধিক কমিটি গঠন করেছে কমিশন। যদিও এর আগের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বৈঠকগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তবে সমন্বয় ও প্রয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এবার তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসি।

জানা গেছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের ধরতে দেশে চলছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে। তবে তাতে স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিদিনই হচ্ছে খুনাখুনি, গুলী বা বোমার শব্দে আতঙ্কিত হচ্ছে মানুষ। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধীদের কর্মকাণ্ডে তা ঠিকই জানান দিচ্ছে। অন্যদিকে বেড়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি, যা নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে গুলী করে হত্যা করা হয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে। চাঞ্চল্যকর এ দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুলী করে হত্যার আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটে। নতুন বছর শুরুর পর অন্তত ১০টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে গত সোমবার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে যশোরের মনিরামপুরে এক ব্যবসায়ীকে, চট্টগ্রামের রাউজানের সিকদারপাড়ায় এক যুবদল নেতাকে এবং নরসিংদীতে আরেক ব্যবসায়ীকে গুলী করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভয় দেখাতে বা আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলী নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটছে। রাজবাড়ীতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী জামিনে বের হয়ে কারাগারের সামনেই এলোপাতাড়ি গুলী ছুড়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। গত ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছোড়ার অভিযোগ আছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরেও গাজীপুরে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলী করেছে দুর্বৃত্তরা। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বাঁচলেও তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যে ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি করা প্রয়োজন, এ জায়গায় দৃশ্যমান ঘাটতি আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভোটের মাঠে সেটার প্রভাব পড়বে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, সম্প্রতি সংঘটিত হত্যা ও গুলীর ঘটনাগুলো সবই রাজনৈতিক নয়। হাদি হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক হলেও বেশিরভাগ ঘটনা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যেসব হত্যা হয়েছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন। একটার সঙ্গে আরেকটা সম্পৃক্ত নয়। এসব ঘটনা বছরজুড়েই কমবেশি ঘটে থাকে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে অনেক হচ্ছে, তা এখনই বলা যাবে না। তবে খুনের মতো ঘটনাগুলো যে কারণেই ঘটুক, জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। পুলিশসহ অন্য বাহিনীগুলো অপরাধ দমনে আরও বেশি কার্যকরভাবে তৎপর আছে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য দিয়ে বলছেন, গত একমাসে দুই শতাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৫ হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার হয়েছে ১৭১ জন। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ১৪৯ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১০টি ককটেলসহ ধারালো অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মনে করছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এরআগে নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সদস্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনকেন্দ্রিক দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখছি না। আগে যেরকম ছিল সেরকমই দেখা যাচ্ছে। ইসিকে আমরা এই কনসার্ন জানিয়েছি যে, মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি উপস্থিতি এবং আরও সক্রিয় কার্যক্রম চালাতে হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশের পাঁচ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র ও ৬ লাখ ৫২ হাজার আটটি গোলাবারুদ লুট হয়। গত দেড় বছরে ৪ হাজারের বেশি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো প্রায় দেড় হাজার অস্ত্র বেহাত অবস্থায় আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বোরের দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি গুলীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে তাতে এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ও পরে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে অনেক দুর্ধর্ষ বন্দী পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এখনো অধরা ৭১০ জন। এ তালিকায় হত্যা মামলার দণ্ড পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও তাদের অনেকেই জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে। তা ছাড়া অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এতে তাদের শিষ্যরা নানা অপরাধ করার মতো সাহস দেখাচ্ছে। পুলিশের বড় একটা অংশ পেশাদার এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় নিতে না পারলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বেশি সময় পার করছে। পাশাপাশি এরা যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।

ওসমান হাদীর ওপর গুলীবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলা ছিল। ওই মামলায় তার জামিনপ্রাপ্তির পুরো প্রক্রিয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মামলার নথি ও হাইকোর্টের আদেশ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামিনের সময়, মেয়াদ স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার চেয়ে দ্রুত, যা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন ফয়সাল করিম মাসুদ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশিত হয়। গ্রেপ্তারের পর ফয়সাল করিমের জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি এসকে তাহসিন আলীর বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই দিন আদেশ দেওয়ার পর আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ১৯ ফেব্রুয়ারি আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। সাধারণত আদেশ প্রস্তুত ও আপলোডে সময় লাগলেও এই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। এরপর চলতি বছরের ১২ আগস্ট জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পুনরায় আবেদন করা হলে বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের বেঞ্চ নতুন করে এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর এক দফা ছয় মাস এবং পরবর্তী দফায় এক বছরের জামিন পান ফয়সাল করিম মাসুদ। হাইকোর্টের এই দুটি আদেশের কপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।

সূত্র আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আস্থার জায়গায় না যাওয়ায় সম্প্রতি অনেক রাজনীতিবিদ ও নির্বাচনী প্রার্থীদের অনেকে অস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। গোপালগঞ্জ-৩(কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, যেখানে তিনি নেতাকর্মীদের দেখাচ্ছেন, তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আছেন। গত বুধবার স্থানীয় একটি মতবিনিময় সভায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখিয়ে বলেন, আমাদের জীবনের হুমকি আছে, এটা সত্য। দেখেন, এখনো বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আছি। জানি না কখন কী হয়, তাই সতর্ক থাকি।’ এস এম জিলানী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি।

ঝিনাইদহে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলল গ্রেনেড: ঝিনাইদহে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে অবিস্ফোরিত দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা গ্রেনেড দুটি দেখে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে যৌথ বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রেনেড দুটি উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর থানায় নিয়ে যান। গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলায় নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বাবু মিয়ার বাড়ি থেকে এ গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলী উদ্ধার: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলী উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকার আবুল কাশেমের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে থানার লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলী উদ্ধার করা হয়। আবুল কাশেম আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের বাবা।