রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এসিআই মটরস লিমিটেড -এর প্রধান কার্যালয়ে গত শুক্রবার এসিআই মটরসের উদ্যোগে জেবিএল প্রো অডিও বাংলাদেশ ব্যানারে এক বিশেষ গ্র্যান্ড ইফতার মিট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের স্বনামধন্য শিল্পী, বিনোদন জগতের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাউন্ড ও অডিও ইন্ডাস্ট্রির পেশাজীবী, এসিআই মটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ডিলার, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং স্থপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এসিআই মটরস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস এবং বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি হামিন আহমেদ।
অতিথির বক্তব্যে হামিন আহমেদ বলেন, এসিআই মটরসের ইয়ামাহা মিউজিক-এর দীর্ঘ পথচলায় সুব্রত রঞ্জন দাসের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনে জেবিএল (JBL)-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত একটি ব্র্যান্ড নিয়ে আসার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রফেশনাল অডিও ও লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জবাবে সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, এসিআই মটরসের ইয়ামাহা মিউজিক কার্যক্রম থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ জন সংগীত শিক্ষার্থী তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যদি আরও বেশি তরুণ প্রজন্ম সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তরুণদের গান, বাজনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতরে নিয়ে আসা গেলে তারা বিভিন্ন নেতিবাচক প্রবণতা ও খারাপ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারবেÑসেই দিকটিতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, জেবিএল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অডিও প্রযুক্তি ব্র্যান্ড, যার ইতিহাস ৭৫ বছরেরও বেশি সময়ের। লাইভ কনসার্ট, স্টেডিয়াম, স্টুডিও, থিয়েটার ও বড় বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে ব্যবহৃত উচ্চমানের সাউন্ড সিস্টেমের জন্য জেবিএল বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। পেশাদার অডিও প্রযুক্তিতে এই ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্থাপন করে আসছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসিআই মটরস-এর উপপরিচালক রোকন সরকার, ওয়ারফেইজ ব্যান্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ মনিরুল আলম টিপু ও ইব্রাহিম আহমেদ কমল, পলাশ, রেনেসাঁ ব্যান্ড-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য নকীব খান, পিয়ানোবাদক ও ওয়ারফেইজ ব্যান্ড-এর সাবেক সদস্য রোমেল আলী, সোলস ব্যান্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাউন্ড লাইট অ্যান্ড লেজার রেন্টাল বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন -এর সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাওল হার্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবি মোহন রায়হান, বিশিষ্ট গীতিকার ও লেখক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, আর্টসেল ব্যান্ড-এর সাজু, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মেহরীন ও ঐশী, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার তরুণ মুন্সী, কণ্ঠশিল্পী সাব্বির জামান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঙ্গীত পরিচালক ফয়সল রদ্দিসহ সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে অতিথিরা সংগীত ও প্রফেশনাল অডিও ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করেন। উপস্থিত অতিথিরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন সংগীতশিল্পী, অডিও পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খুলনায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেসিসির ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু
খুলনা ব্যুরো
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীতে গতকাল শনিবার থেকে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা বাংলাদেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তারই অংশ হিসেবে খুলনায় এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এমনভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন নগরীর নর্দমা পরিষ্কার করবে। তবে নর্দমা বা জলাশয়ে কেউ যেন বর্জ্য না ফেলেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জনগণের দায়িত্ব। তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং জনসাধারণকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।
কেসিসির এই বিশেষ উদ্যোগের পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ফুলের টব, ড্রাম, অব্যবহৃত বালতি বা পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মরণঘাতী রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কনজারভেন্সি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, মো. অহিদুজ্জামান খান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহবুব কায়সার, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাফিজুর রহমান মনি, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, রফিকুল ইসলাম শুকুরসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ।