ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে বাড়ল ৪ টাকা ২১ পয়সা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। গত মাসে (জানুয়ারি ২০২৬) দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। গত মাসে দাম বেড়েছিল ৫৩ টাকা।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। এ সময় কমিশনের সদস্য মো. মিজানুর রহমান, মো. আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। তবে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ–সংকট চলছে। প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দাম নির্ধারণের কারণেই বাড়তি দামের বিষয়টি বোঝা যায়। কমিশন আইন অনুসারে দাম ঘোষণা করছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মুসক/ভ্যাট) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৪ পয়সা। গত মাসে তা ছিল ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এই মাসে দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা ৪২ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে তা ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।
জানা গেছে, বাজারে দ্বিগুণ দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, প্রায় দুই মাস ধরে চলছে এই অরাজকতা। এমন পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়ম রক্ষার দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যদিও বিইআরসি ঘোষিত দামে এলপিজি পাওয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। বিইআরসি ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজির দর ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বাজারে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা চলেছে। জানুয়ারি মাসে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তারপরও মাসজুড়েই এলপি গ্যাসের বাজারে ছিল অস্থিরতা
সাধারণত শীতকালে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে গেলে দামও উর্ধমূখী হয়। আমদানি নির্ভর এলপিজিতে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে প্রথম দর ঘোষণা হয়। ওই আদেশে বলা হয় সৌদির দর উঠা-নামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠানামা করবে। অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি। তবে অভিযোগ রয়েছে কখনই বিইআরসি নির্ধারিত দরে বাজারে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না।
সম্প্রতি এক সেমিনারে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হওয়া উচিত ১০০০ টাকা। ১২০০ টাকার সিলিন্ডার ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। দায়িত্বহীন ব্যবসা হতে পারে না, ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে। এলপিজির দাম কমানোটা চ্যালেঞ্জ, এ জন্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে, বেশি মুনাফা করে টাকা পাচারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।