গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে এবং জুলাই সনদের আইনিভিত্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এ দাবি করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীকে কবজা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং বিরোধী দল-মতকে দমন করে দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গুম, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘর তৈরির মাধ্যমে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা স্থায়ীকরণের পাঁয়তারা করে তারা। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার, দুর্নীতি, লুটপাট, ভূমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে পিষ্ট ছাত্রজনতা রক্তাক্ত জুলাই জাগরণের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। জুলাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, আহত গাজীরা হাসপাতালের বেডে এখনো কাতরাচ্ছে। অথচ জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার জন্য ন্যূনতম অনুশোচনা না দেখিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশের মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা গণহত্যাকারীদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই Ñ শহীদদের উত্তরসূরিরা বেঁচে থাকতে দেশে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে আসবে, ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, যেসব রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, সেই কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য হলেও কোনো কোনো পক্ষ তা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় জুলাই সনদ একটি অপরিহার্য উপাদান। সুতরাং কোনো দলীয় অবস্থানকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সরকারের দায়িত্ব Ñ গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন করা। তাই অতি সত্বর জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানে আদেশ এবং জনমত আদায়ের লক্ষ্যে গণভোটের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।” নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে আওয়ামী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচি ঘোষণা: আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত জুলাইসহ সকল গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্তৃক নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাক্সক্ষা ছিল সকল গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, স্বাধীন ও শক্তিশালী সাংবিধানিক কাঠামো গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। সেই কাক্সিক্ষত নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় জুলাই সনদ একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানে সরকার সময়ক্ষেপণ নীতি গ্রহণ করেছে। কার ইশারা ও এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার এমন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে ধীরগতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার সুযোগে আওয়ামী লীগ অতীতের ন্যায় আবারও দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশে গুম ও গণহত্যার প্রবর্তক নিষিদ্ধ এই দলটি ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও গণহত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।

কর্মসূচি: আজ বুধবার দেশব্যাপী বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং উক্ত কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি