থার্টি ফার্স্ট নাইটে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ শব্দদূষণ সংক্রান্ত ৩৮১টি অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে ৯৬টি অভিযোগ রাজধানী ঢাকা এলাকার। বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এসব অভিযোগ পাওয়া যায়। সরেজমিনের বুধবার রাতে ঢাকা শহরের বিভিন্নস্থানে দেখা যায় উচ্চ শব্দে পটাশ ও পটকাবাজি করা হয়েছে। বিশেষ করে মগবাজার, ইস্কাটন হাতিরপুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এরপরও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে পটকা ও আতশবাজি করা হয়। রাষ্ট্রীয় শোকের সময় এই আতশবাজি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা) আনোয়ার সাত্তার জানান, প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকা থেকেই ৯৬টি ফোন এসেছে। বাকি ২৮৫টি অভিযোগ এসেছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। তিনি বলেন, প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই রাজধানীজুড়ে বিকট শব্দে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো শুরু হয়। যা গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে ফানুস ওড়ানো হয়।
এর ফলে মিরপুর ৭ নম্বর এলাকায় একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ডিএমপির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো বা গণ-উপদ্রব সৃষ্টি থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পরেও অধিকাংশ এলাকায় এই নির্দেশনা মানা হয়নি।