ঈদুল ফিতর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ফলে প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতেও সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ধানমন্ডি, লালবাগ, তেজগাঁও, রমনা ও হাতিরঝিল এলাকায় তীব্র যানজটের চিত্র দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যানজটে আটকে পড়া এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, গাড়ি যে গতিতে চলছে, তার চেয়ে হেঁটে গেলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। এদিকে এক ব্যক্তি ভুল করে এফডিসি থেকে গুলশানের সড়কে না গিয়ে রামপুরার সড়কে চলে আসেন। পরে তাকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক সোহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যানজটের কারণে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এতে তেল বেশি খরচ হচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায় ভাড়া বাড়ছে না। উপরন্তু পাম্প থেকে দুই লিটারের বেশি তেলও দেওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আমরা দুর্ভোগে আছি।
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান জানান, তিনি ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে একজন রোগীকে বাসায় নিয়ে আসতে দেড় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। সাধারণত পাঁচ মিনিটের পথ হলেও সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত তীব্র যানজটের কারণে রোগী নিয়ে বাসায় পৌঁছাতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে থাকা রোগীও ব্যথা-যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে ছটফট করছিলেন।
আতাউর রহমান বলেন, ঈদের আগের এ সময়টায় যানজটের কারণে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ও বাজারে কেনাকাটার ভিড় বাড়তে শুরু করায় সড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রাজধানীবাসীকে প্রতিদিনই বাড়তি সময় ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে হয়ে রাজধানীর কর্মজীবীরা ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়েছেন। যানজটের ভয়াবহতা এতটাই তিব্র ছিল যে ক্ষেত্রবিশেষে পাঁচ মিনিটের রাস্তা পথ ঘণ্টাতেও পার হওয়া যায়নি। রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, মধ্য বাড্ডা, মালিবাগ, আবুল হোটেল, তেজগাঁওয়া, মগবাজার, গুলশান, মহাখালিসহ বিভিন্ন সড়কে যানজটের দৃশ্য দেখা গেছে। তবে বনশ্রী, মালিবাগ আবুল হোটেল, রামপুরা এবং তেজগাঁওয়া অঞ্চলের রাস্তাগুলোতে যানজটের তীব্রতা বেশি দেখা গেছে।
বনশ্রী-রামপুরা অঞ্চলের যানজটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ফেসবুকের একটি গ্রুপে মো. মীর মিলন নামের একজন লিখেছেন, ‘আইডিয়াল থেকে রামপুরা ব্রিজে আসলাম এক ঘণ্টা ২০ মিনিটে। পুরো হাতিরঝিল বন্ধ, একটা মানুষও ঢুকতে দিচ্ছে না।’
মালিবাগ আবুল হোটেল থেকে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটে মেরুল বাড্ডায় আসা রাজধানী সুপার পরিবহনের চালক মো. আলী কদম বলেন, ‘রাস্তায় ভয়াবহ যানজট। ১০ বছরের ওপরে আমি রাজধানীতে গাড়ি চালাচ্ছি। এমন যানজটে আর কখনো পড়িনি।’
তিনি বলেন, ঈদের কেনা কাটার জন্য মানুষ বের হবে তাই রাস্তায় একটু যানজট থাকবে এটা ধরেই বের হয়েছি। কিন্তু এমন যানজটে পড়তে হবে কল্পনাও করিনি। আবুল হোটেল থেকে মেরুল বাড্ডা আসতে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট লেগেছে। যানজট ধরেই সাধারণ এই রাস্তা আসতে ৩০ মিনিটের বেশি লাগে না।’
বনশ্রী থেকে মোটরসাইকেলে ফার্মগেটের অফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া আরিফুল ইসলাম রামপুরা ব্রিজের ওপর থেকে বলেন, বনশ্রীর এফ ব্লকের বাসা থেকে বের হয়ে ইউলুপ পর্যন্ত আসতেই এক ঘণ্টার ওপরে লেগেছে। ইউলুপ পার হয়ে দেখি হাতিরঝিলের রাস্তা বন্ধ। এখন বাড্ডা-গুলশান ঘুরে অফিসে যেতে হবে। ১০টায় অফিস শুরু, ইতোমধ্যে সাড়ে ১০টা বেজে গেছে। অফিস পৌঁছাতে কয়টা বাজবে আল্লাহ্ জানে। রাস্তার যে অবস্থা, ১২টার ওপরে বেজে যাবে মনে হচ্ছে।’
পায়ে হেঁটে নতুন বাজারের অফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া হৃদয় হাসান নামের একজন আফতাব নগর গেটের সামনে থেকে বলেন, ‘অফিসে মিটিং আছে ১১টায়। যাত্রাবাড়ির বাসা থেকে ৯টায় রওনা দিয়েছি। মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত ভালোভাবেই আসতে পেরেছি। কিন্তু এরপরেই যানজটে পড়তে হয়েছে। মালিবাগ থেকে রামপুরা আসতেই এক ঘণ্টার ওপরে লেগেছে।