বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক চিত্র আরেকবার ফুটে উঠল গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বাসভবনের আঙিনায়। বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত মিলনমেলায় সে দেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দুজনই দুই দেশের অনন্য ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার, ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং, বিজেপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবর, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তিন সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখোপাধ্যায়, পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী ও রীভা গাঙ্গুলি দাশ। এ ছাড়া বহু সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল গোটা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নে ছিল বাংলাদেশের ‘কাচ্চি বিরিয়ানি’।
হাইকমিশনার হামিদুল্লাহ যেমন মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং তেমন জানান, বহুমুখী সম্পর্ককে গভীরতর করার জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত উন্মুখ। স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংলগ্ন হাইকমিশনারের বাসভবন চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছিল। অতিথিদের বরণ করে হাইকমিশনারের বাসভবনের সবুজ লন পর্যন্ত নিয়ে গেছেন দূতাবাসের কর্মীরা। যাত্রাপথে পাতা ছিল রেড কার্পেট। গাছগাছালি সাজানো হয়েছিল আলোর মালায়। উৎসব উৎসব এ পরিবেশে আনুষ্ঠানিকতা ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রিয়াজ হামিদুল্লাহ স্বাগত ভাষণে স্বাধীনতাসংগ্রামে ভারতের সেনাবাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, গণহত্যার মুখোমুখি হয়েও পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অগণিত মানুষের জীবনদানের কথা এবং ভারতবাসীর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রত্যেক বাংলাদেশি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এ ধারাবাহিকতা দুই দেশের গভীর মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করেছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, অনেকেরই জানা নেই, রবিশঙ্করের উদ্যোগে যে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ হয়েছিল, তা বিশ্ববাসীর নজর ‘পূর্ব পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধ’ থেকে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে’ ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এই সবকিছুই আমাদের গভীর মানবিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রতিচ্ছবি, যা দীর্ঘস্থায়ী মৌখিক ইতিহাস ও জীবনচর্চায় সমৃদ্ধি লাভ করেছে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি, দিল্লি হাইকমিশনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের আগমন ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা লেখা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির উপস্থিতিরও উল্লেখ করেন হামিদুল্লাহ। বর্তমান বৈশ্বিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তায় হাতে হাত মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা তারেক রহমানের চিঠির উল্লেখ করেন, যাতে মর্যাদা, সাম্য, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সুফলের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। হামিদুল্লাহর আশা, এ সম্পর্ক ১২ বিলিয়ন ডলারের সীমা পেরিয়ে ২৮-৩০ বিলিয়নে পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে।