বহুল প্রতিক্ষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো আলোচনাই হয়নি। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অস্থির অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করছে নির্বাচনবিমুখ দলগুলো। তার এ বক্তব্যের পর অনেকেই বলছেন, কাউকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বের করা। এভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে বিভক্তি আরও বাড়বে। তৃণমূলে এর বিরূপে প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুলাই আদেশ প্রস্তুত করছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। উল্টো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকা দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি বলছে, সংস্কার ও গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট হতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। আর বিরোধ নিরসনে সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সরকারের সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি খসড়া আদেশ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সমঝোতা না হওয়ায় সরকারই ঠিক করবে আদেশে কী কী থাকবে। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা উত্থাপন করা হতে পারে। গণভোট কখন হবে এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একাধিক উপদেষ্টা বলেছেন, গোপনীয়তায় আদেশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। উপদেষ্টারাও জানেন না, এতে কী কী থাকছে।

গত ৩০ অক্টোবরের বৈঠকে অধিকাংশ উপদেষ্টা গণভোটে মতামত দেন। তবে কখন গণভোট হবে তা নিয়ে উপদেষ্টারা ভিন্নমত জানান। ফলে এর সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার জন্য সাত দিন দেওয়া হয়।

সময়সীমা শেষ হওয়ায় এখন কী হবে প্রশ্নে এক উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা ১৩ নভেম্বরের উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত দেখতে চাই। ততদিনে সমঝোতা না হলে সরকারই সিদ্ধান্ত দেবে।

সূত্র মতে, ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপি রাজি হলেও এখন গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কমিশন সংস্কারের জন্য ছয়টি পদ্ধতি প্রস্তাব করে রাজনৈতিক দলের মতামত চেয়েছিল। এর দুটি ছিল নির্বাচনের আগে গণভোট এবং নির্বাচনের দিন গণভোট। বিএনপি তখন গণভোটের বিরোধিতা করে। জামায়াত মতামত দেয়নি। তবে সংলাপ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী গণভোট দাবি করে।

গত জুনে ২২ মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সব দলের সঙ্গে একত্রে সংলাপ শুরু করে কমিশন। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতিসহ কয়েকটিতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিলেও, কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ঐকমত্য ঘোষণা করে। ঐকমত্য না হওয়ায় জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল আবার গণভোটের দাবি তোলে। বিএনপি তখন বিরোধিতা করলেও গত ১৭ সেপ্টেম্বর গণভোটে রাজির কথা জানায়। এর পর ৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিনই গণভোট চায়। গত ১৭ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সই করা জুলাই সনদে সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। সইয়ের আগের দিন বিএনপির দাবিতে সনদে নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত করা হয়। তবে গত ২৮ অক্টোবর কমিশন সুপারিশে আদেশের যে খসড়া দিয়েছে, তাতে নোট অব ডিসেন্ট নেই। সুপারিশ করা হয়েছে, গণভোট হবে আদেশ এবং তফসিলে যুক্ত সংস্কারের ৪৮ প্রস্তাবের ওপর।

বিদ্যমান সংবিধানে গণভোট করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সংবিধানের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। এখন গণভোট নির্বাচনের আগে কেন, ভোটের দিন করাও এ সংবিধান গ্রহণ করবে না। সুতরাং আমাকে সংবিধান মানতে হবে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাকর্মীকে প্রশ্ন করে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? এসব বোঝেন শিক্ষিত কিছু ওপরতলার লোক। যারা আমেরিকা থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন, সংস্কার প্রস্তাবে আমরা যেটিতে রাজি, সেটি বাস্তবায়িত হবে। যেটিতে রাজি হবো না, সেটি সংসদে যাবে পাস হবে।

এদিকে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল মঙ্গলবার রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের আট দল পৃথকভাবে কর্মসূচি দিলেও মঙ্গলবারের জনসভা একসঙ্গে করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার সোমবারের মধ্যে আদেশ জারি না করলে মঙ্গলবার ঢাকায় জনসভা হবে। মানুষ জানিয়ে দেবে তারা গণভোট কখন চায়। নির্বাচনের আগেই গণভোট হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছেন আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না। আমরা যে কোনো সময় আলোচনায় বসতে রাজি। প্রয়োজনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসতে উদ্বুদ্ধ করবো।

সূত্র জানায়, জুলাই সনদ ইস্যুকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থানকে সরকার চূড়ান্ত অবস্থান হিসাবে দেখছে না। সরকারের আশা, প্রকাশ্যে এই কঠোর অবস্থান থেকে অবশ্যই তারা ছাড় দেবে। সূত্র জানায়, ড. ইউনূস মনে করলে দলগুলোর সঙ্গে আরেক দফা কথা বলতে পারেন।

জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব (সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে) রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক সপ্তাহ শেষ হয়েছে। তবে সপ্তাহের মধ্যেই হতে হবে, এমন নয়। এখনো সময় আছে। দলগুলো চাইলে আরও সময় নিতে পারে। সরকার আরও অপেক্ষা করবে। এরপরও সমাধান না হলে উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা যদি মনে করেন, দলগুলোকে আরেকবার ডাকবেন, তাহলে সরকারের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে। না হলে দেশ ও জনগণের বৃহৎ কল্যাণে সরকার একটি সিদ্ধান্ত দেবে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটা মুখোমুখি, এ অবস্থায় সংকট সমাধানের আভাস বা সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। আমরা আশা করছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রজ্ঞা এবং দেশ ও জাতির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার পরিচয় দেবে। আশা করি দ্রুতই সংকটের সমাধান হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে দ্রুতই সরকারের সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অনেকগুলো ক্ষেত্রেই তো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়নি সেগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে নিজেরা একসঙ্গে বসে একটা ঐকমত্যে এসে সরকারকে জানায়। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সেই প্রক্রিয়ায় যায়নি। আমরা বলেছিলাম রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেরা সমাধান করতে না পারে তবে সরকার অবস্থান নেবে। যেহেতু সাত দিন পার হয়ে গেছে, এখন সরকার বসবে। সরকার অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করে যেটা ভালো মনে হয় সরকার সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সরকার একটা সম্ভাব্য সমাধান মাথায় রেখেই আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, সেটা খুব দ্রুতই আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকার সিদ্ধান্ত আরোপ করছে কি না- এ বিষয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, কেউ তো বলেনি যে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। যদি শুনতাম সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, তারপরও যদি সরকার সিদ্ধান্ত নিত তাহলে কথাটা বলতে পারতেন যে আমরা আরোপ করছি। তা তো নয়। সরকারের তো একটা দায়িত্ব আছে, তাকে তো এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে অচলাবস্থাকে কাটিয়ে আনতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত দিতে খুব বেশি সময় নেব না। আমরাও নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকার যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটি যদি রাজনৈতিক দলগুলো না মানে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘যদি’ ‘দিয়ে’ আর এখন প্রশ্ন করেন না, সরকার সিদ্ধান্ত নিক। কেউ তো বলেনি সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মানবো না। তাহলে আপনি কেন ‘যদি’র কথা আনছেন। আমি যদি সিদ্ধান্ত না নিতে পারি, তবে সিদ্ধান্ত তো মানতে হবে। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব তো পালন করতে দিতে হবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার যেটা ভালো মনে করে সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তারপরও যদি কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা অশুভ শক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে যারা দোষী তাদের আমরা আইনের প্রক্রিয়ায় আনবো।

এদিকে ইসি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় গণভোটের সময় নিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজ থেকে কিছু বলতে চায় না। অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, তারা সেভাবে প্রস্তুতি নেবে। কবে ভোট হলে কেমন প্রস্তুতি লাগবে, তা নিয়ে কিছু অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলেও কমিশন গণভোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেনি। এখন পর্যন্ত ইসির মূল মনোযোগ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। এই প্রস্তুতি গণভোটেও কাজে আসবে। ইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেদিনই গণভোট হোক তাদের কিছু বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হলে খরচ কিছুটা বেশি হবে। এ ক্ষেত্রে মূল খরচ বাড়বে নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে। আর সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট হলে খরচ তুলনামূলক কিছু কম হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও ইসিকে কিছু বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে।

যতই চালাকি করে সময় নষ্ট করা হোক না কেন, আগে গণভোট তারপর জাতীয় নির্বাচন হতে হবে সম্প্রতি এক আলোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সময়ক্ষেপণ করে লাভ নাই। গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে। আগে গণভোট তারপর জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। নতুবা জনগণ আবার রাজপথে নেমে আসবে।

জানা গেছে, গণভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলাদা করে বসতে নারাজ বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে আলোচনায় বসতে রাজি আছে বিএনপি। তবে অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে দিয়ে কেন তাদের আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে?

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হলে গণঅভ্যত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের ক্রিমিনালাইজেশন বা অপরাধীকরণ আদালত পর্যন্ত গড়াবে। তিনি বলেন, আমরা একে বলি জেন-জি রেভ্যুলেশন। কারণ, মাঠে আমরা বুক চেপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি জেন-জিদের, তরুণ জনগোষ্ঠীকে। তাদের রক্তের ওপর দিয়েই এই সরকার (অন্তর্বর্তী) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, এখন এসে সেই তরুণদের এক ধরনের ক্রিমিনালাইজ করা হচ্ছে। ভুলে যাবেন না, আপনারা কেউ ভুল করবেন না, এই ক্রিমিনালাইজেশনের শেষ এখানেই নয়। এটা শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হবে না। জুলাই সনদ যদি আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত না হয়, যদি আইনি প্রক্রিয়ায় তা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এই ক্রিমিনালাইজেশন কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে।

জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেই এগুচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের লক্ষ্যে বিএনপিকে দায়িত্ব নিয়ে আলোচনার আহ্বান যেমন জানিয়েছে, তেমনি সরকারকেও রেফারির ভূমিকা নিতে বলেছে। অন্যদিকে আইনি ভিত্তির মাধ্যমে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে অবিলম্বে জরুরি আদেশ জারি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের স্পষ্ট দলীয় অবস্থান জানান দিয়ে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে সক্রিয় থাকারও সিদ্ধান্ত রয়েছে তাদের।

খেলাফত মজলিশ মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সরকারের আলাপ-আলোচনা আহ্বান রয়েছে। কিন্তু আমরা সাড়া দেখছি না। আলোচনার দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে কোনো না কোনো দলকে তো নেওয়া উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দলীয় ও যুগপৎ সঙ্গীদের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। যাদের কারণে মূলত জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যে সমস্যা, তারা কিন্তু সাড়া দেননি। তাই আমরা রাজনৈতিকভাবেই বিষয়টি দেখছি, কর্মসূচি দিয়েছি যুগপৎ সঙ্গীরা মিলে। জনসভা থেকে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান থাকবে– কমিশনে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হোক।