বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, মাদকের মতোই মোবাইল আসক্তি শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১ কেজি আফিমের চেয়েও বেশি ভয়াবহ একটি মোবাইল। তাই মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে। অতীতে ক্রীড়াঙ্গনে যুব সমাজের জন্য বরাদ্দের নামে হরিলুট করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার শাহবাগ মানব কল্যাণ সংস্থার উদ্যাগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, এখন যারা বলে সতেরো বছর তারা খায়নি, তাদের খাওয়ার সুযোগ করে দিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান করা হয়নি। ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে বৈষম্যহীন, সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। যেই রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বলে আসছে। এখন অবশ্য অনেকেই বলে তারা ৪ বছর, ৫ বছর, ৮ বছর আগে সংস্কারের কথা বলেছে। অথচ জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পরপরই ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে শুরু করে পরবর্তীতে পাকিস্তান এবং সবশেষ স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কারের আন্দোলন করে আসছে। জামায়াতে ইসলামীর এই আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এদেশের জনগণ ঐ বিজয় চূড়ান্তরূপ দিবে আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বয়কট করে সৎ, যোগ্য, আল্লাহ ভীরু ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে নির্বাচিত করে।
যারা রাজনৈতিক পরিবেশ নিজের অনূকূলে হলে দেশে আসে তারা কখনো দেশপ্রেমিক নেতা হতে পারে না উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইসলামি ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মীর কাসেম আলীকে দেশে না আসতে অনুরোধ করা হলেও তিনি বলেছিলেন, সবার আগে দেশ। তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে নিজের জীবন উৎস্বর্গ করে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছেন। কোন ফ্যাসিবাদ আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপোষ করেননি। অথচ এখন শুনা যায়, বিদেশে নিরাপদে এসি রুমে থেকে নাকি কেউ কেউ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আবার ফ্যাসিবাদের পতনের ক্রেডিট দাবি করে।
সংস্কার ছাড়া শতবছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সাবেক সিইসি আটকের পর আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া প্রসঙ্গে ড. মাসুদ বলেন, এই স্বীকারোক্তি এখন না দিয়ে ডামি নির্বাচনের আয়োজন না করে পদত্যাগ করলে ডামি নির্বাচন সম্পন্ন হতো না। যেহেতু ডামি নির্বাচন সম্পন্ন করতে আওয়ামী লীগ কে সহযোগিতা করা হয়েছে, সেহেতু শাস্তি পেতেই হবে।
তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে উপস্থিত তরুণ যুব সমাজকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা এস. আই. এম ফেরদৌস আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ বিনোদন যুবসমাজকে অপরাধ জগত থেকে দূরে রাখে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো যুব সমাজের জন্য খেলাধুলার উদ্যোগে নিলে একটি সুস্থ জাতি গঠন করা সহজ হবে।
শাহবাগ মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহবাগ থানা আমীর আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড হেড অব ব্রাঞ্চ এ.এ.এম মাজহারুল ইসলাম, শাহবাগ মানব কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি সর্দার আবদুল কাদের। বক্তব্য রাখেন পল্টন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ, সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক শিমুল চন্দ্র দাস, পল্টন নাগরিক ফোরামের সংগঠক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরাজী সহ বিভিন্ন স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শাহবাগ মানব কল্যাণ সংস্থার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।