ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাবুবাজারে জাবালে নূর টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবনে লাগা আগুন সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট। আগুন লাগা ভবনে আটকেপড়া ৪৫ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল শনিবার বিকাল ৫টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরপর ঘটনাস্থলে ব্রিফ করে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এর আগে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনটির বেজমেন্টে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গতকাল ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে খবর পাওয়ার পর ৮ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট ও সিদ্দিক বাজারসহ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। বেজমেন্টে বিভিন্ন দোকান ছাড়াও ঝুটের গোডাউন রয়েছে। সেসবে আগুন বিস্তৃত হওয়ায় এবং ঝুটের স্তূপে আগুন থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রেণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবন নিয়ে গঠিত; কিন্তু এগুলোর বেজমেন্ট একটি। এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন রয়েছে। উপরে রয়েছে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুইটি। বেশিরভাগ দোকানের তালা ও শাটার কেটে কেটে আগুন নেভাতে হয়েছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

জানা গেছে, আগুন লাগা ভবনটি ১০ তলাবিশিষ্ট। এটি নুরে আলম ও মো. ফারুক হোসেন নামের দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন। ভবনটির ভূগর্ভস্থ, প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় কাপড়ের গুদাম ও দোকান আছে। তৃতীয় থেকে দশম তলা পর্যন্ত আবাসিক ফ্ল্যাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

জাবালে নুর টাওয়ারের বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখতে পাই। তখন চিৎকার করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিচে নেমে আসি। তখন আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও ছোটাছুটি করে নিচে নেমে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে এসেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

আমাদের কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা মো: এরশাদ হোসেন জানান, জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সাড়ে ১১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নির্বাপণ হয়নি। আগুনের তীব্রতা অনেকটা কমলেও ভবনের ভেতরে এখনও ধোঁয়া রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ ফায়ার সার্ভিস প্রথমে চৌদ্দটি এবং পরে আরও ছয়টি মোট বিশটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বেজমেন্টে দোকান ও ঝুট গোডাউন থাকায় এবং ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এখনও ধোঁয়া রয়েছে এবং কিছু জায়গায় আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আগুন যাতে পাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা একযোগে কাজ করছে। দিন গড়িয়ে গেলেও আগুন আশপাশের দোকান ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

ফায়ারসার্ভিস কর্মীদের সাথে কাজ করা সেচ্ছাসেবী আলামিন জানান, সকাল থেকে দেখছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না,তাই ঝুকি নিয়েই ব্যবসায়ী ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা অনেকগুলো কাপড় বের করতে সক্ষম হয়েছি।

দোকান মালিকরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় অনেক মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ভবনটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান ও ফ্ল্যাট রয়েছে। তাদের দাবি, আগুনে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হকার থেকে দোকানের মালিক হয়েছেন কুমিল্লার রুবেল কিন্তু মুহূর্তেই শেষ তার ১৭ বছরের অর্জন। রায়হানের ২ কোটি টাকার দোকান আগুনে পুড়ে ছাই। আর জুরাইনের সালাম তাকিয়ে দেখছিলেন বাবার জমি বিক্রির কোটি টাকায় কেনা শীতের কাপড় পুড়তে।