দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের উৎসবে মেতেছে সারাদেশের মানুষ। বিগত ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর জনগণের ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না। এবার সে সুযোগ আসায় সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অসংখ্য তরুণ ভোটার হওয়ার পর এই প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ছেলে, বুড়ো, নারী-পুরুষসহ সকলের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবার ভোটাররা সংসদ নির্বাচনের ভোটের পাশাপাশি গণভোট দেয়ারও সুযোগ পাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় ভোটারদের মধ্যে তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। এক প্রাণবন্ত ও মুক্ত পরিবেশে প্রচারণায় নামছে দেশের সব রাজনৈতিক দল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন একটাই আলোচনাÑ ‘ভোট আসছে’। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩১টি আসনে তুমুল লড়াই হতে পারে। আর তিনটি আসনে ঋণ খেলাপীর কারণে বিএনপির প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার কারণে দশ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী শাসনামলে একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যে অনীহা ছিল, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতসহ মোট ৫১টি দল ও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৭৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ২৪৯ জন। প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করলেও মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তারা। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দল। ইতোমধ্যে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন। সেখান থেকেই দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রচারণা শুরু হয়েছে। তারপর আমীরে জামায়াত গতকাল সারাদিনই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।

এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আর গতকাল সারাদিনই তিনি ঢাকার বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। উভয় পক্ষই ভোটারদের কাছে টানার জন্য নানা ধরনের বক্তব্য তুলে ধরছেন। তবে প্রচারণা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের আশংকাও রয়েছে। প্রচারণা শুরুর আগেই কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে কঠোর হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ভোটার ও ভোট কেন্দ্র: এবারের সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন। গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৮৯টি, যার মধ্যে ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষের সংখ্যা যথাক্রমে ২,৪৭,৪৮২টি এবং ৪,৩১,২০৮টি।

তুমুল লড়াই হবে ৩১ আসনে

দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ঢাকা-১২ আসনে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর ১ আসনে দুই জন। এছাড়া দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফলে এসব আসনে ভোটের মাঠে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, প্রার্থী যত বেশি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তত বেশি হবে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর-১ আসনে এবার মাত্র দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী, অন্যজন বিএনপির আলমগীর হোসেন। কম প্রার্থী হলেও এ আসনে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে, যেখানে লড়ছেন ১৩ জন। নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ (তেজগাঁও এলাকা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তারা হলেনÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিন সাইফুলসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে প্রতিটিতে ১২ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া ১১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ–২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ এবং খাগড়াছড়ি আসনে।

অন্যদিকে, ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, টাঙ্গাইল-৪, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ ৫, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-৯ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে।

দেশের বেশ কয়েকটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের যেসব আসনে লড়াই করতে হচ্ছে, সেখানে প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ১০ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে আটজন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাসনিম জারা ঢাকা ৯ আসনে ১১ জনের সঙ্গে এবং বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী ৩ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন। এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা ৪ আসনে চারজনের সঙ্গে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা ৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া ঢাকা ১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক, ঢাকা ১ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা ২ আসনে আমানউল্লাহ আমান এবং বরিশাল ৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার ২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়বেন ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে মোকাবিলা করতে হবে মাত্র তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে জয় পেতে সাতজন বৈধ প্রার্থীকে হারাতে হবে।

কিছু আসনে লড়াই কম হবে বলে দেখা যাচ্ছে। তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, কারণ ঋণখেলাপির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে কম হবে।

তিন আসনে এগিয়ে দশ দলের প্রার্থী

বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তিন আসনে এগিয়ে আছে দশ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা। কুমিল্লা ৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর জয়লাভের পথ কিছুটা সহজ হয়ে গেছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে প্রার্থিতা পুনর্বহালের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন এগিয়ে আছেন এবং কুমিল্লা ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভুইয়ার মনোনয়নপত্রও বাতিল হওয়ায় এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত এগিয়ে রয়েছেন।

জামায়াত প্রার্থীর সমাবেশ থেকে অস্ত্রসহ ২ জনকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী সমাবেশ থেকে অস্ত্রসহ ২ জনকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ জানান, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তার নির্বাচনী সমাবেশে আওয়ামী লীগের লোগো সংবলিত গেঞ্জি পরিহিত একজনসহ সন্দেহভাজন ৩ জন ঘোরাঘুরি করছিল। পরে তার দেহরক্ষীরা সন্দেহভাজন ৩ জনের মধ্যে ২ জনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছে ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন অপরজন পিস্তলসহ পালিয়ে যায়। আটক ২ জনকে তার দেহরক্ষীরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

নির্বাচনে ১৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জনই কোটিপতি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তি করে হলফনামা বিশ্লেষণের পর এ তথ্য জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। একই ভিত্তিতে ২৭ জন প্রার্থী শত-কোটিপতি। এদিকে দুজন প্রার্থী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বর তথ্য লুকিয়েছেন বলে জানিয়েছে টিআইবি। তবে নীতিমালার কারণে তাদের পরিচয় দিতে অপারগতা জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা তথ্যগুলো জানাব।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্লেষন করেছে। তাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। এসব প্রার্থীর মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে প্রায় ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে স্নাতক ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি স্নাতকোত্তর ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মাধ্যমিক ৬ শতাংশের কিছু বেশি।

বিগত পাঁচটি নির্বাচনের তুলনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবারই সবচেয়ে বেশি। নবম নির্বাচনে ছিল ৭১ দশমিক ২৩ শতাংশ, দশম নির্বাচনে ৭১ দশমিক ৯১ শতাংশ, একাদশে ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং দ্বাদশে ছিল ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এবার ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি ১৯২টি, গণঅধিকার পরিষদ ৯০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০টি আসনে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।