জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গত সোমবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতে নামায শেষে শহিদদের বাসায় যান তিনি। সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এদিকে আমীরে জামায়াতের পক্ষ হতে ঈদের আগের দিন প্রতিটি পরিবারের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকাল ৭ টায় জাতীয় মসজিদের ১ম ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণ করেন এবং মোনাজাতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঈদের সালাত আদায় শেষে আমীরে জামায়াত সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মুসল্লীদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

ঈদের নামায শেষে প্রথমে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ অফিসে আসেন। সেখানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, জনশক্তি ও জনসাধারণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রমনায় শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পরিবারে যান। পরিবারের লোকজনের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা দিয়ে নৃশংস হামলায় শাহাদাতবরণকারী সবুজবাগের হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন ও শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের পরিবারে যান আমীরে জামায়াত। সেখান থেকে যান গেন্ডারিয়ায় শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস ,শহীদ জুনায়েদ, শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নেন ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এখান থেকে কুতুবখালীর শহীদ আসলাম, শহীদ শাকিল, শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওন, শহীদ জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ আওয়াল মিয়া ও শহীদ জিহাদ হোসেনের বাসায় যান আমীরে জামায়াত।

এরপর কাজলায় শহীদ নাঈম হাওলাদার, শহীদ নাসির হোসেন, শহীদ জসিম উদ্দিন ও শহীদ আরিফের বাসায় যান আমীরে জামায়াত। তারপর যাত্রাবাড়ী ৩ নং স্পটে শহীদ রবিন মিয়া, শহীদ আহমদ আব্দুল্লাহ, শহীদ ইয়াসির সরকার, শহীদ জিহাদ, শহীদ আব্দুল হান্নান ও শহীদ ওয়াসিম শেখের পরিবারে এবং যাত্রাবাড়ী ৪ নং স্পট শহীদ নূর হোসেন, শহীদ জাহাঙ্গীর খা, শহীদ রানা, শহীদ মিসেস শাহিনুর বেগম ও শহীদ ইমন গাজীর পরিবারে যান আমীরে জামায়াত।

পরে যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানার হাজী বাদশা মিয়া ৮ নং রোডের শহীদ ইব্রাহিমের বাসায় সমেবেত শহীদ মিরাজ হোসেন, শহীদ রাকিব ও শহীদ মাসুদের পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপনে আমীরে জামায়াতের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদসহ মহানগরীর নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন থানা আমীর এবং সেক্রেটারিবৃন্দ।

সোমবার বিকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শহিদ শাহরিয়ার খান আনাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শহীদ তামীম ও শহীদ সিফাত-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। ৩১ মার্চ সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি মিরপুরে শহীদ তামীম ও শহীদ সিফাত-এর বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আমীরে জামায়াত শহীদ পরিবারের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং সকলকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসাসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদ ছয় বছরের শিশু জাবির ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়ত আমীর। তিনি শহিদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা, মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের শহিদ পিকআপ ভ্যানচালক রানা তালুকদারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার মাতা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আরেক শহিদ জুবায়েরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শহিদ জুবায়েরর বাবা এবং দুই সন্তানের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন ও পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ জুবায়েরের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। একই দিন জুলাই আন্দোলনের শহিদ আসাদুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি শহিদ পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। জামায়াত আমীর শহিদ আসাদুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সদ্যজাত সন্তানকে কোলে তুলে নেন ও পরম স্নেহ-মমতায় আদর করেন।

জুলাই আন্দোলনে পানি বিতরণ করার সময় শহিদ মীর মুগ্ধের বাসায়ও যান জামায়াত আমীর। তিনি শহিদ মীর মুগ্ধর বাবা, ছোট ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ মীর মুগ্ধর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

এর আগে ১০ দিনের ইতিক্বাফ আদায় শেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ উঠার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এর পরিবারের সাথে উত্তরার বাড়িতে সাক্ষাৎ করেছেন। ডা. শফিকুর রহমান শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের সার্বিক খোজ-খবর নেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ মুজাহিদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।