• সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে : মন্ত্রী
  • আমদানি হচ্ছে আরো ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল
  • ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারন মানুষ মধ্যে। তারা মনে করছেন যুদ্ধে কারনে জ¦ালানি তেলের সংকট তৈরী হতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ¦ালানি তেল সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ফিলিং ষ্টেশন গুলোতে। দীর্ঘ লাইনের কারনে ২লিটার তেল সংগ্রহে প্রায় ২/৩ ঘন্টা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জ¦ালানি তেলের আপতত কোন সংকট নেই। এ বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেছেন, ‘দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।তবে বাস্তবে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করে রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।’ তবে গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘প্যানিক হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।

জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। জনভোগান্তি কমাতে আজ রোববার থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।বিরক্ত-বিক্ষুব্ধ বাইকাররা, দুই লিটার তেল কিনতে লাইনে আড়াই ঘণ্টা!

এদিকে রাজধানীর কল্যাণপুর খালেক স্টেশন সার্ভিস পাম্পে শুক্রবার রাতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে পেট্রোল পাননি আল আমিন। গতকাল আবার সকালে এসে লাইনে দাঁড়ান। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দুই লিটার অকটেন কিনতে পারেন। মাত্র দুই লিটার তেল কিনতে আড়াই ঘণ্টার ভোগান্তি পোহাতে হওয়ায় বিরক্ত এ ব্যবসায়ী।

মোহাম্মদপুর এলাকার এ ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধিকাংশ ছোট পাম্প বন্ধ। বড় পাম্পে প্রচণ্ড ভিড়। অনেক পাম্পের আশপাশে লাইন ছাড়িয়ে গেছে এক কিলোমিটারের বেশি। এই ভোগান্তিতে বেশি পড়তে হচ্ছে বাইকারদের। এ থেকে নিষ্কৃতি চাই। সরকার নির্দেশনা জারি করে তেল ক্রয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুধু এই ব্যবসায়ী নন, পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ সাধারণ বাইকার-প্রাইভেটকার চালক বলছেন, সরকারের উচিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ, ডিস্ট্রিবিউশন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। মজুতদারি বন্ধ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ না নিয়ে তেল কেনার সীমা বেঁধে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুয়েল পুড়িয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর আসাদগেটের তালুকদার পাম্প, সোনার বাংলা, কল্যাণপুরের খালেক পাম্পসহ তিনটি পাম্প, টেকনিক্যাল ও মাজার রোডের ২টি, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ের আরও দুটিসহ মোট ১১টি পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্প তেল কিনতে আগ্রহী যানবাহন চালকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।

তালুকদার পাম্পে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার বলেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। মজুতদারি কারবারি সিন্ডিকেটের এই অপচেষ্টায় সরকারও যেন অংশ নিলো ফুয়েল ক্রয় সীমিত করে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তারা ভাবছেন আসলেই জ্বালানি তেলের সংকট আছে।

খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, আমরা চাপে আছি। তেলের গাড়ি লোড করা। কিন্তু যে পরিমাণ চাপ, তা সামাল দিতে অন্তত ২০টা স্টেশন দরকার। সেটা তো নেই। যে কারণে ৫/৬টা দীর্ঘ লাইন হচ্ছে। কিন্তু সামনে এসে দুটি স্টেশনে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে ফিলিং স্টেশন, পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপের কারণে সড়কে যানজট, গাড়ির জটলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সড়কে যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দুদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও নজর দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ফিলিং স্টেশন মালিক পক্ষ, শ্রমিক, পরিবহন ও পুলিশ মিলে যৌথ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। পাম্প কেন্দ্রিক লাইন করা হচ্ছে। বাইকারদের জন্য আলাদা লাইন করা হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করছি আগামীকাল মূল সড়ক-সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন কেন্দ্রিক যানজট বাড়তে পারে।

আসছে ২.৮০ লাখ টন ডিজেল :

দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটে। তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

চলতি মার্চ মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করেছে সরকার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যার কিছু অংশ ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং অপারেশন উইংয়ের প্রধান মনির হোসেন চৌধুরী শনিবার জানান, বাংলাদেশে মাসে ৩.৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে ২.৮০ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে কোনো দেশ থেকে কী দরে এসব তেল কেনা হচ্ছে, তা জানাননি তিনি।

বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ২.৮০ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আরও চারটি জায়গা থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে ডকুমেন্ট লেনদেন পর্যায়ে আছে। ফলে ডিজেল নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই এবং কেউ বাড়তি ডিজেল না কিনলে পাম্পগুলোতে সংকট হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

তবে বাজারে বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, ‘বাইকাররা অযথা পেট্রোল পাম্পে ভিড় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তাদের প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হলেই সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্যতা ফিরবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান কর্মকর্তারা। এছাড়া, নভেম্বর পর্যন্ত সারের মজুদ থাকায় সরকার সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির গুজবে খুলনা মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড়

খুলনা ব্যুরো

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ জ্বালানি তেল ব্যবহৃত যানবাহনের ভিড় দেখা দিয়েছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে। অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। শুক্রবার জুমার নামাযের পর নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যেয়ে এর সত্যতা মেলে। এ কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোর স্বাভাবিক বিক্রির তুলনায় গতকাল হঠাৎ বিক্রি বেড়ে যায়। এদিকে সংকট নিরসনে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিএল)।

নগরীর ফুলবাড়ীগেট মেসার্স নগর পেট্রোলিয়াম সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার মো. মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের স্টেশন থেকে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটারের অধিক তেল বিক্রি হয়। কিন্তু গুজবের কারণে গতকাল জুমার নামাযের পর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যায়। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল নিতে আসছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত তেল নেয়ার জন্য পাত্রও নিয়ে আসে। তবে বিপিসির নির্দেশনা মেনে পাত্রে কোনও তেল বিক্রি কিংবা নির্ধারণ করে দেওয়ার বেশি তেল বিক্রি করছি না। পাম্পে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি প্লাস্টিক/কাঁচের বোতল, কন্টেইনার/জার, ক্যানে বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিপোগুলো থেকে আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ পেয়েছি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। পূর্বের দাম অনুযায়ী পেট্রোল লিটার প্রতি ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার বিক্রি করছি।’

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে যানবাহনের জন্য তেল সরবরাহ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় দেশের জনগণের ভয় আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সামগ্রিকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সকল ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেলওয়াগন/ ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে।

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত গলিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগে দেশী জ্বালানি সম্পদ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি তল্লাশি এবং গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকহারে জোরদার করেছে।

গককাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাজমুল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু চক্র অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল মজুত কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্টসহ যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছে, সেসব পয়েন্টে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী পণ্যবাহী যানবাহনে অধিক সতর্কতার সাথে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর কঠোর নজর রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত পথে যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনক যেকোনো পরিবহণ ও গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।