গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। জটিলতাগুলো এখনো অপরিবর্তিত। ফলে এই মূহুত্বে দেশের বাইরেও নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশেই চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে।
গেল মাসের ২৩ তারিখ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় এখনো সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার দেখভাল করছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। তার নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস চলছে। ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের বিদ্যমান জটিলতাগুলোও এখনো অপরিবর্তিত।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, ম্যাডামের অবস্থা আগের মতোই আছে, বিশেষ উন্নতি না হলেও স্থিতিশীল রয়েছে।
দলের এক চিকিৎসক বলেন, উল্লেখ করার মতো কোনো উন্নতি এখনো দেখা যাচ্ছে না। অবস্থা আগের মতোই। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতা দান করেন।
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন ফ্লাই করার মতো উপযুক্ত নয়। এ কারণে আপাতত তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। দেশে থেকেই তার চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে। কেবল অবস্থার উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার যে উদ্যোগ ছিল, সেটি বর্তমানে স্থগিত আছে। দেশে চিকিৎসাই চলবে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।
মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লন্ডনে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া। এ কারণে তিন দফা নির্ধারিত যাত্রার তারিখ পেছাতে হয়েছে এবং আপাতত বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে ডাক্তারদের।