ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করবে কি না সে উত্তর আগামীতে খুঁজতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এক সাংবাদিক জানতে চান, কিছুদিন ধরে নানান ঘটনায় ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক টান টান অবস্থায় আছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাকে সম্মান জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা আসা, সে উত্তেজনা প্রশমিত করবে নাকি আগের অবস্থায়ই থাকবে? এর উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এর উত্তর আপনাদের ভবিষ্যতেই খুঁজতে হবে। এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর এই উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজনাথ সিং। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান রাজনাথ সিং। তিনি বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইতে এই বার্তা লেখেন। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত বুধবার ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। এছাড়া ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও অংশ নেন। এর মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তার একধরনের যথেষ্ট পজিটিভ ইমেজ আছে।