- কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা
- অ্যামাজনের ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা
- মিসাইল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
মুহাম্মদ নূরুল হুদা : ইরান মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে। ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া তেলআবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। সৌদী কর্তৃপক্ষ রিয়াদের আকাশে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর কথা বলেছে। এছাড়া গণহত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলায় অংশ নেবে না জার্মানি। সবশেষে ইরানে হামলা চালিয়ে মিসাইল সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এনবিসি নিউজ, বিবিসি, এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বরং তিনি বলেছেন, ইরান মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়Ñ ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনীর সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে তেহরান উদ্বিগ্ন কিনা।
জবাবে সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘না, আমরা চিন্তিত নই। বরং আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ আমরা নিশ্চিত যে তাদের মোকাবিলা করতে পারব এবং এটি তাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়ে পরিণত হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ১২ দিন ধরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলেছিল, তখনও ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
তার ভাষায়, ‘জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংলাপ চলাকালে আমরা অনুমান করেছিলাম যে একটি যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দিইনি। এমনকি গত বছর জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল, তখনও আমরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিইনি। সেই সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরাইল, যারা এই সংঘাত শুরু করেছিল।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
সংলাপ শেষ হওয়ার একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। একই সময়ে ইসরাইলও ইরানে অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এদিকে টানা ছয় দিন ধরে চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নাগরিকদের সতর্ক করেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারল না ইসরাইল
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে- ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিজেদের নাগরিকদের জন্য এমন সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরই জানিয়েছে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ইরান থেকে তাদের দিকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। টেলিগ্রামে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ আগে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আরও বলা হয়, এই হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট কমান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা মানুষের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা’ পাঠানো হয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড প্রাসঙ্গিক এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই হামলা ঠেকাতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখতে। ঠিক গিয়ে ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।
বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পরও শুক্রবার (৬ মার্চ) তেল আবিবে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা
ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তেল আবিবেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে এ সময় সেগুলো প্রতিহত করতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর সক্রিয় হেয়েছে। ইসরাইলি বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে সামরিক অভিযানের মেয়াদ নিয়ে শুরুর দিকে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা থেকে সরে এসে তিনি বলেছেন, যত সময় লাগুক ইরানে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে চান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। তার পরের দিন ১ মার্চ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য দেওয়ার পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ বলেন, যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
তবে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইমকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,আমার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। ইরানে আমি শুধু আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে চাই। আমাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লক্ষ্য হলো; ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। চতুর্থ লক্ষ্য হলো, তাদের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারবে না।
তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে বিকট বিস্ফোরণ
তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন প্রান্তে আজ শুক্রবার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মধ্যেই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে ইসরাইল বলেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ‘বড় পরিসরে’ বিমান হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৫২টি ফরাসি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে। ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফরাসি গণমাধ্যম সি-নিউজ/ইউরোপ-১ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাবারো বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে বর্তমানে নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ৫২টি এবং লোহিত সাগরে ৮টি জাহাজ অবস্থান করছে। আমরা এই জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি, কারণ সেখানে বেশ কিছু ফরাসি নাবিক রয়েছেন।’ গত শনিবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়।
পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে আটকা পড়েছে ফ্রান্সের ৬০টি জাহাজ
পারস্য উপসাগরে ফ্রান্সের ৫২টি জাহাজ আটকা পড়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরে আটকে আছে আরও আটটি জাহাজ।
ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এ তথ্য জানিয়েছেন। এই অঞ্চলের নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছে প্যারিস। ইরানে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩৩২: রেড ক্রিসেন্ট ইরানে গত শনিবার শুরু হওয়া ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
৬টি ইরানি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের বিমানবাহিনী রাতভর হামলা চালিয়ে ৬টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে ছোড়ার আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা ইরানের তিনটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। এমকিউহারমেস ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের আকাশে একটি এমকিউ-নাইন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দেশটির টিভি চ্যানেল জানিয়েছে। টিভি চ্যানেলের খবরে আরও জানানো হয়, তেহরানের আশপাশে আরেকটি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে না জার্মানি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলায় অংশ নেবে না এবং দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপেও সমর্থন দেবে না জামার্নি। বার্লিনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল।
জোহান ওয়াডেফুল বলেন, জার্মানি ইরানের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কামনা করে, তবে এমন পরিবর্তন অবশ্যই ইরানের জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। আমরা ইরানসহ কোনো দেশের সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপেও অংশ নিচ্ছি না।’
জার্মানির এই রক্ষণশীল রাজনীতিক আরও জানান, জার্মানি ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং দেশটির সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বার্লিন ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।
ওয়াডেফুল বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণকেই এমন অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যাতে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে এবং সম্ভবত এই শাসনব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু স্পষ্ট কারণেই এ বিষয়ে জার্মান সরকারের কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।’ এ সময় তিনি অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়ে তেহরানকে এসব আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মিসাইল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, আতঙ্কে ইউরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিষয়ক কমিশনার অ্যান্ড্রিয়াস কুবিলিয়াস সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আর পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার অবস্থানে নেই। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সংকটের পর ইউরোপের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা এবং অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুবিলিয়াস স্পষ্ট করে বলেন, আমেরিকা বর্তমানে তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইউক্রেনের বিশাল চাহিদা একসঙ্গে মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, এটা ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউক্রেন যখন রাশিয়ার ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের কৌশলগত স্থাপনায় ইরানি হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, ঠিক তখনই এমন উদ্বেগের কথা সামনে এল। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল এবং এসএম-থ্রি ইন্টারসেপ্টরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে ওয়াশিংটনের। পেন্টাগন সূত্র জানাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে গত চার বছরে প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হওয়ায় এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপকে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইইউ কমিশনার।
অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে হামলা
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুর পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে।
এবার আরেক বড় হামলার খবর দিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ফারস নিউজ জানায়, তেহরানের শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলো কীভাবে সহায়তা করে, তা চিহ্নিত করতেই বাহরাইনের এই অ্যামাজন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলাটি দুবাইয়ের অ্যামাজন ডাটা সেন্টার এবং অঞ্চলের অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় আইআরজিসির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।
এদিকে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস গত সোমবার জানিয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাদের দুটি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং বাহরাইনে আমাদের একটি স্থাপনার খুব কাছে ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও যোগ করেছে, ‘এ হামলার কারণে কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং আমাদের অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত পানির কারণেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
সৌদী ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আবার হামলা
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুর পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) আবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা দেশটির রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গেছে। যদিও এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
এছাড়া ইরানের সেনাবাহিনী জানায় যে, তারা কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দেশটির উপকূলে একটি জাহাজেও আক্রমণ করেছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র মালিকানাধীন। এই নৌযানটি একটি ট্যাঙ্কার হতে পারে, যা দিয়ে তেল পরিবহণ করা হয়।