বিশ্ববাজারে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এ খাতে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার অভাবে এই সম্ভাবনাময় খাত কাক্ষিতভাবে এগোতে পারছে না বলেও অভিযোগ তাদের। এছাড়া প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানিতে বৈষম্যে ৬৯৫ বিলিয়ন ডলারের আন্তজার্তিক বাজার হাতছাড়া হচ্ছে বলে মনে করছেন এখাতের সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬ উপলক্ষে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে এএসকে ও বিজিএপিএমইএ।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহরিয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে প্যাকেজিং পণ্যের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা সেই বাজারে যথাযথ অংশ নিতে পারছি না। মূল কারণ হলো সরাসরি রপ্তানিতে কোনো প্রণোদনা না থাকা এবং নীতিগত সহায়তার অভাব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানি করলে কোনো রপ্তানি প্রণোদনা পাওয়া যায় না। অথচ চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এই খাতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে থাকে। আমাদের সেক্টর কখনোই কোনো সময় রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় আসেনি, যা বড় একটি প্রতিবন্ধকতা।

নীতিগত বাধার কথা তুলে ধরে বিজিএপিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ৩০০ জিএসএমের নিচের কাগজ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কর দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ৫৮ থেকে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হয়, যা আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি এনবিআর-সংক্রান্ত একটি বড় নীতিগত সমস্যা।

তিনি দাবি করেন, গার্মেন্ট খাতের জন্য যেসব নীতিগত ও ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে, গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত সেগুলো থেকে বঞ্চিত। একইভাবে ব্যাংক ফাইন্যান্সিং, কাস্টমস সুবিধা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগুলো বাস্তবে আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না। ফলে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

মো. শাহরিয়ার আরও বলেন, আমরা ১০০ শতাংশ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য দেশেই উৎপাদন করতে সক্ষম। কেউ যদি দাবি করে কোনো পণ্য বাংলাদেশে তৈরি হয় না, তাহলে আমরা সরাসরি ফ্যাক্টরিতে নিয়ে গিয়ে উৎপাদন দেখাতে প্রস্তুত।

তিনি জানান, আরএমজি খাতের জন্য এরইমধ্যে দেশে যে অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও কারখানা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করেই প্যাকেজিং পণ্যের সরাসরি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। এতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ বা জনবল সৃষ্টির প্রয়োজন হবে না।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামাল আমদানিতে কর ছাড় এবং নীতিগত সহায়তার বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সরকার এ খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএপিএমইএ সভাপতি বলেন, গার্মেন্ট খাতের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বরং আমরা তাদেরই শক্তিশালী সাপোর্টিং ইন্ডাস্ট্রি। এই খাত এগোলে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান দুটোই বাড়বে।

গ্যাপ এক্সপো ২০২৬ : তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি বা গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী গার্মেন্টস টেকনোলজি প্রদর্শনী বাংলাদেশ (জিটিবি ২৬) ও গ্যাপ এক্সপো ২০২৬। আগামী ১৪-১৭ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চারদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর চলবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং এএসকে ট্রেড শো অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে আইসিসিবির ১০টি হল জুড়ে এই প্রদর্শনীটিতে অংশ নিবে।

সম্মেলনে জানানো হয়েছে, এ বছর মেলায় ৩০-৪০ হাজার ব্যাবসায়ীসহ ৮০ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবে। যার মধ্যে ১৮টির বেশী দেশের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিন কোরিয়া, জার্মানির অনেক প্রতিষ্ঠানও আছে।