১৭ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক সরকারের শপথ গ্রহণের পর স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এখন কি করবেন কোথায় আছেন। কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন কি-না। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনায় অবস্থান করছেন। তিনি এই মাসের শেষের দিকে যুমনা ছাড়বেন বলে জানা গেছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শেষ ব্রিফিংয়ের দিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, ওনার ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন। উনি আগে যে কাজগুলো করতেন, সেগুলো করবেন। সামাজিক ব্যবসা নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলেন। ক্ষুদ্রঋণ ও “থ্রি জিরো” ভিশন নিয়ে কথা বলেন। দারিদ্র্যকে কীভাবে কমানো যায়, সেই কাজ তিনি এখন পর্যন্ত করছেন, আগামী দিনগুলোতেও করবেন। পরিবেশ নিয়েও কাজ আছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর তারা একটি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন।
জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশই এখন পর্যন্ত সরকারী বাসভবনে বসবাস করছেন। তারা খুব শিগগিরই সরকারী বাসা ছেড়ে নিজ নিজ পেশা এবং বাসায় ফিরবেন। সরকারি বাসা নিয়ে দেওয়া ড. আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে। তিনি সরকারি বাসার মায়া কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্র্তৃক বরাদ্দকৃত বাসায় উঠবেন বলে জানা গেছে। তিনি ফিরে যাবেন তার কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘বাসাটির প্রতি মায়া জন্মে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে আমরা চলে যাব এই বাসা থেকে। আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যও অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ-ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ একজন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক। তিনি আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আপাতত কিছুদিন’বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমযানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন তিনি।
আরেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একজন পরিবেশবিদ এবং আইনজীবী। তিনিও ফিরবেন নিজ পেশায়। দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন একজন লেখক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনিও ফিরবেন আপন পেশায়। আদিলুর রহমান খান একজন মানবাধিকার কর্মী। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি কাজ করেছেন মানবাধিকার নিয়ে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। আবার তিনি নিজ কাজে মনোযোগী হবেন বলে জানিয়েছেন।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ। তার মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত-তাওহিদের সম্পাদক, আরবি ও ইংরেজি মাসিক বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই থেকে তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সায়েন্সেস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ ছিলেন বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে কাজ করেছেন। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করবেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি আবারো নির্মাণে মনোযোগ দিবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল ইসলাম আবরার ও ওরফে সি আর আববার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি অবসরে কি করবেন তা জানা যায়নি।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধানরঞ্জন রায় পোদ্দার একজন স্বনামধন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায়। চিকিৎসাপেশার পাশাপাশি গুণী লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এ চট্টগ্রাম বন্দরে আক্রমণের জন্য গঠিত অভিযানিক দলের উপ-অধিনায়ক ছিলেন । তিনি পরবর্তীতে কি করবেন সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার দায়িত্ব শেষে আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান। সুপ্রদীপ চাকমার জন্ম ১৯৬১ সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে। তিনি মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সুপ্রদীপ চাকমা। এছাড়া রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা ও কলম্বোতে বাংলাদেশ মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। প্রসঙ্গত উপদেষ্টারা নতুন মন্ত্রিসভার শপথের দিন পতাকাবাহী গাড়িতে যান। শপথ হয়ে যাওয়ার পর ওই গাড়ি তাদের বাসায় পৌঁছে দেয়। তবে সেই গাড়িতে পতাকা ছিল না।