ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সারাদেশের ২৯৯ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। কিছু সংখ্যক এলাকায় কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সারাদেশে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। অনিয়মের কারণে কোন কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করতে হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনে বেশ কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬শ ৫১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং ৪৭.৯১ শতাংশ। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের হার সর্ম্পকে জানাতে পারেনি।

সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গণনা চলছিল। ছেলে, বুড়ো, নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিয়েছে। সারাদেশেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে মানুষের উৎসব লক্ষ্য করা গেছে। ১৮ বছর পর মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আর ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর তরুণ প্রজন্ম প্রথমবারের মতো ভোট প্রদান করেছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গতকাল ভোট দিলেন দেশের ভোটাররা। একই সঙ্গে ভোটারেরা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মত জানালেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা। সারাদেশেই ভোটের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে। এদিকে নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় মোট সাত ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সেনা বাহিনীসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। ৯ লাখেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে। ভোট চলাকালীন সময়ে যেসব এলাকায় অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা যাচাই করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে নির্বাচনী সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বেশিরভাগই ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের সমর্থক বলে জানা গেছে। প্রভাব বিস্তার নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে এসব হামলা-সংঘর্ষ ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। সেই সাথে আজ বাদ জুমা মসজিদগুলোতে দোয়া ও উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনার আয়োজন করার জন্য বলা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি সবাইকে মোবারকবাদ জানান।

সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি বলেন, আজকের ঐতিহাসিক ভোট গ্রহণের দিনের শুভসূচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়ণের ট্রেনে উঠে গেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান সকালে রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠন হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না, যা হবে ১৮ কোটি মানুষের। ভোট যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তাঁরা সেই ফলাফল মেনে নেবেন। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সকালে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। ভোট দিয়ে তিনি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন।

সকালে রাজধানীর বেরাইদের এ কে এম রহমত উল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোট দেওয়ার পর তিনি ‘১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। আমরা মনে করছি, আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।’

নয়জনের মৃত্যু

ভোট চলাকালে পৃথক ঘটনায় মোট নয় ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে রাজ্জাক মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আগানগর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রামে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম মো. মনু মিয়া (৫৭)। সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিএনপির নেতা মহিবুজ্জামান কচি (৬০) মারা গেছেন। সকাল ৯টার দিকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মহিবুজ্জামান খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। কেন্দ্রের ভেতরে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কাচারি পাড়া এলাকায় সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রে সকাল আটটার দিকে জ্ঞান হারিয়ে হেলে পড়েন ২ নম্বর বুথের পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮)। পরে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষক ছিলেন।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ভোট দেওয়ার জন্য বের হয়ে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। গতকাল সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মাছিহারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম অনাথ ঘোষ (৬৫)।

মৃত ব্যক্তির ভাতিজা জয়দেব ঘোষ বলেন, তাঁর কাকা সকালে নাশতা শেষে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বের হন। তিনি মাছিহারা প্রাইমারি স্কুলে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পাঁচমাথা নামক স্থানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জে ভোট দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এক ভোটার। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম বাবু মিয়া (৭০)। তিনি পেশা ভ্যান চালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন তিনি। চারদিকে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভিড়ের মধ্যেই শান্তভাবে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বাবু মিয়া। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আকস্মিক তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার সততা নিশ্চিত করে ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ওসমানেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে ফেরার পথে বাছের চৌধুরী (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি কেন্দ্রে গতকাল সকালে ভোট দিতে গিয়ে আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তিনি সাবেক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি সপরিবারে রাজধানীর মানিকনগরে থাকতেন।

আবু সাঈদের স্ত্রী প্রীতি ইসলাম ওরফে পারভীন বলেন, তাঁর স্বামী আজ সকালে ঘুম থেকে জেগে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। তাঁর কাছে খবর আসে তাঁর স্বামী স্কুল ভবনের চতুর্থ তলার সিঁড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর নাম মো. রেজাউল করিম। তিনি উপজেলার দরাবন্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মাজরাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের পক্ষ থেকে শোক বার্তায় জানানো হয়, মৃত্যুকালে রেজাউলের বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

ভোটার সংখ্যা

একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়। ২৯৯টি আসনে এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। ইসির তথ্য অনুসারে, এবারের নির্বাচনে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ হয়, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিল। প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ১ লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।