গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকাল ৮টায় পবিত্র দারসুল কুরআনের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো: রেজবুন হক (প্লাবন)-এর পিতা মোঃ আজাদুল ইসলাম। অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) এবং জাহিদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করেন।

কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধানের আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগঠনের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা কার্যকরী পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতিতে এবং সাহাবায়ে কেরামের আন্তরিকতা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি ও মানসিকতা ধারণ করে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিষ্ঠা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়।