ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, গণভোটে হ্যাঁ দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাবে এটা মিথ্যাচার। সংবিধানে বিসমিল্লাহ আছে, বাদ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এগুলো মিথ্যা অপপ্রচার। গতকাল রোববার দুপুর গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মানুষ আর আইয়ামে জাহেলিয়াতে ফিরতে চায় না। তিনি সম্মেলনে অংশ নেয়া ইমামদেরকে ফ্যাসিবাদ রূখতে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আঃ ছালাম খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শামসুল আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা ও হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশকে বদলাতে হলে সকলের নৈতিক দায়িত্ব হ্যাঁ ভোট দেয়া। তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্ন আসলে একটাই। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চান কিনা? যারা চায় তারা হ্যাঁ ভোট দিবে। যারা না ভোট দিবে তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ শুধু কালো কালি দিয়ে লেখা নয়, এটা শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সন্তান হারানো মায়ের হাহাকার, বোনের আর্তনাদ, পিতার ক্রন্দন ও শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সম্মেলনে অংশ নেয়া ইমামদেরকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়তে এবং দুর্নীতি দূর করতে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, হ্যাঁ মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, না মানে ফ্যাসিবাদ। নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। নীরবতা মানে না এর পক্ষে অবস্থান। তিনি বলেন, এই সংবিধানের মাধ্যমে হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছে। এই সংবিধানের অধীনে যে কেউ ফেরাউন হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান সংস্কারের জন্য ৩০টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটে একাত্তর মুছে যাবে এটা ডাহা মিথ্যা।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এদেশে আলেম-ওলামা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। তিনি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য আলেম-ওলামার প্রতি আহ্বান জানান। এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, খতিব-ইমাম, ইসলামি স্কলার ও ওয়ায়েজীন অংশ নেন।