আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে এই বিপুল সংখ্যক আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
গাজীপুরের আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা ভেঙে দেয়। আনসার ও ভিডিপি কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারীও নয়-তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত রাষ্ট্রীয় কর্মচারী এবং একমাত্র পরিচয় হবে জনগণের নিরপেক্ষ সেবক হিসেবে।
নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি, আইনের শাসন রক্ষা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে দুর্নীতি, পক্ষপাত ও প্রভাবমুক্ত থাকাই হবে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।
নির্বাচনী দায়িত্বের কাঠামো তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ সদস্য এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্যা থাকবেন। অস্ত্রধারী সদস্যদের একজন প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে, যেখানে ১১ হাজার ৯১০ জন প্রশিক্ষিত সদস্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত থাকবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, সাহস হলো অন্যায় আদেশকে না বলা, বেআইনি নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করা এবং নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। সততা, নৈতিকতা ও বিবেককে সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, মেজর জেনারেল, আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।