ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি হাদীর মৃত্যর খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম। আল জাজিরা, সিএনএ, ডয়চে ভেলে, বিবিসি, আল আরাবিয়া, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টাস ও দ্য গার্ডিয়ান, দ্য সান মালয়েশিয়াসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য গণমাধ্যমও ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে। দ্য ডন, জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং দ্য টেলিগ্রাফ, এনডিটিভির মতো ভারতীয় অনেক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে হাদীর মৃত্যুর খবর।
ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবর গত বৃহস্পতিবারই প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের নেতা শরিফ ওসমান হাদী; গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর যাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তিনি মারা গেছেন।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চিকিৎসকদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হাদীকে বাঁচানো যায়নি। ডয়চে ভেলেও হাদীকে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘোষণা দেয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। হাদী ভারতের বিরুদ্ধে একজন স্পষ্টভাষী সমালোচক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারী যুব আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও এ খবর প্রকাশ করেছে। হাদীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত বৃহস্পতিবার হাদীর মৃত্যর খবর আসার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই খবর দিয়েছে। হাদীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে বিক্ষোভ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের বেশিরভাগ গণমাধ্যম। এনডিটিভি তাদের শিরোনাম করেছে, ছাত্রনেতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ উত্তাল, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাদীর মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন স্থানে ভারত বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। দ্য হিন্দু শিরোনাম করেছে, তরুণ নেতা হাদীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সংহিংসতা; গণমাধ্যম কার্যালয়ে আগুন। আনন্দবাজার তাদের শিরোনাম করেছে, ‘রাতভর বিক্ষোভ বাংলাদেশে! ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ সংবাদপত্রের অফিসে।’ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের খবর প্রকাশ করেছে তারা। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও টিভির খবরে বলা হয়, তরুণ নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া আরো বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদীকে গুলী করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি। ওইদিন মোটরসাইকেলে করে এসে দু’জন তাকে খুব কাছ থেকে গুলী করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলী ওসমান হাদীর মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে, তবে অংশবিশেষ এখনও তার ব্রেনে রয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছিল ওসমান হাদীকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।