রাজধানীর উত্তরায় ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনে নারী, শিশুসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত্যের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারে কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) ও তাদের ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)। নিহত আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান। স্বামী স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরাতে নানীর বাসায় থাকত জানিয়ে আবু সাইদ আরও জানান, শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানীর বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসে। এরপর আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। পরবর্তীতে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এদিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পেয়ে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের ঘটনায় উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টায় পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন-মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। তাদের মধ্যে হারিছ ও রাহাবের লাশ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোদেলার লাশ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ফল ব্যবসায়ী হারিছ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি জটিলতার কারণে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হত। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোতলায় রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা। এ বিষয় তদন্তের পর অগ্নিকান্ডের কারণ স্পষ্ট জানা যাবে।
জিগাতলায় আবাসিক ভবনে আগুন: এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জিগাতলায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকান্ড ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট। দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, জিগাতলায় চারতলা একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।