রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। অনেকেই মন্তব্য করেছেন- সাহাবুদ্দিন এমনই সময় পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যা গ্রহণযোগ্য নয়। যেদিন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে- সেই দিনটিকেই তাকে বেছে নিতে হলো কেন? এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। কেউ কেউ বলেছেন-তিনি যদি পদত্যাগ করতেই চাইতেন এতদিন কেন করলেন না। পদত্যাগের বিষয়ে এখনই নিজেকে ঘোষণা দিতে হলো কেন? নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখবে কিনা তা ভবিষ্যতের বিষয়।
সামাজিক মাধ্যমে এমডি মিজান নামের একজন লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আগেভাগে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা’। ইভান মোল্লা নামের একজন লিখেছেন, ১ বছরের বেশী সময় লাগলো অপমান বোধ করতে। একজন সম্মানিত ব্যক্তির অপমান বোধ করতে পারে কিন্তু তার কোনো লজ্জা নাই। লজ্জা থাকলে ৫ আগস্টের পরেই পদত্যাগ করতে পারতেন। সায়মন লিখেছেন, লজ্জা থাকলে অনেক আগেই পদত্যাগ করতো। আর জে সজিব লিখেছেন, পদত্যাগ করলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে। সাহরিয়ার মন লিখেছেন, রাষ্ট্রপতিকে আগামী সংসদে অভিশংসন করা হতে পারে। আরেকজন লিখেছেন, তাঁর তো আরো আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিলো। জামাল আহমেদ লিখেছেন, ওর তো ৯ তারিখ অবসর নেওয়া উচিৎ ছিলো। আব্দুল গফুর নামে একজন লিখেছেন, আরো আগে পদত্যাগ করা দরকার ছিল আপনার। এখন পদত্যাগ করে দেশকে আবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন?
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে দেয়া সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এ অবস্থানে আছি।
সাহাবুদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সঙ্গে প্রায় সাত মাস কোনো ধরনের সাক্ষাৎ করেননি। রাষ্ট্রপতির গণমাধ্যম বিভাগ কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজের ছবি সরিয়ে ফেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাই কমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। এগুলো হঠাৎ করে এক রাতের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। মানুষজন ভাবতে পারে, রাষ্ট্রপতিকে হয়ত সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।’
সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রয়টার্স দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতির মন্তব্যগুলো নিয়ে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইংয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।
রাষ্ট্রপতি জানান,সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। জেনারেল ওয়াকার তাঁকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার হস্তক্ষেপ না করায় শেখ হাসিনা সরকারের পতন নির্ধারিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও জেনারেল ওয়াকার ‘গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চান’।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী তাঁর পদত্যাগের দাবি জানালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল তাঁর পদত্যাগ চাননি।