ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ হাসপাতালে জনতার ভিড়
দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই অনুসরণ করছিল হাদীকে: ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে গুলী করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা রিকশায় করে যাওয়ার সময় রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে এ ঘটনা ঘটে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর লাইফ সাপোর্টে রেখে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ওসমান হাদীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাদীর মাথার ভেতরে অস্ত্রোপচার করার পর কোনো গুলী পাওয়া যায়নি। সার্জনরা জানিয়েছেন- গুলী মাথা থেকে বের হয়ে গেছে।
এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলীবিদ্ধ হাদীকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রাতে ৮টা ৫ মিনিটের দিকে হাদীকে বহনকারী আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায়। এর আগে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে হাদীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা।
দ্রুত আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। হাদীকে দেখতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, একই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নেতা-কর্মীরা।
হাদীর গুলীবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ শত শত মানুষ হাসপাতালের সামনে জমায়েত হয়। তারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রজনতাসহ রাজনৈতক দলের নেতাকর্মীরা।
হাদীর একজন সহযোদ্ধা বলেন, জুমার নামাজের পর মসজিদে তাদের লিফলেট বিলি কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল লিফলেট বিলি শেষে সবাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই হাদীর ওপর হামলার খবর আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা আসেন। মোটরসাইকেল থেকে হাদীকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদীকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলীবিদ্ধ হওয়ার সময় ওসমান হাদীর পেছনের রিকশায় ছিলেন মো. রাফি। তিনি গুলীবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। মো. রাফি বলেন, জুমার নামাজ শেষে আমরা হাইকোর্টের দিকে আসছিলাম। রিকশায় ছিলাম। বিজয়নগর আসতেই একটা মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে হাদী ভাইয়ের ওপর গুলী ছুড়ে পালিয়ে যায়। আমি ভাইয়ের পেছনের রিকশায় ছিলাম।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বেলা ২টা ২৫ মিনিটের দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা আসে। মোটরসাইকেল থেকে হাদীকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তকাজ করছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সড়কে ব্যাটারির রিকশায় ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদী, তার পেছনে পেছনে আসে একটি মোটরসাইকেল। চলন্ত অবস্থায় সেই মোটরসাইকেল থেকেই একটি গুলী করা হয় হাদীকে। গুলীটি হাদীর কানের পাশ দিয়ে মাথায় বিদ্ধ হওয়ায় জীবন শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গুলীর ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হাদীকে বহনকারী রিকশাটি বক্স কালভার্ট সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল তার অনেকটা পাশ ঘেঁষে চলতে থাকে। রিকশাটির একেবারে কাছে মোটরসাইকেল আরোহী অস্ত্র বের করে গুলী করেন। শুক্রবার ছুটির দুপুরে রাস্তায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। ফাঁকা রাস্তায় মোটরসাইকেলটি দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়। এরপর হাদীর সতীর্থরা তাকে ওই রিকশাতে করেই ঢাকা মেডিকেলের দিকে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেলে হাদীর সতর্থীরা বলেছেন, একটি গুলীই করেছে, যেটি হাদীর মাথায় লেগেছে। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে গুলী করা হয়। কারা কী কারণে তাকে গুলী করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আমরা অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছি। ঘটনাস্থলে একটি গুলীর খোসা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের একজন আনসার সদস্য ইমরান হোসেন হৃদয় বলেন, চাকা ফেটে যাওয়ার মত একটি শব্দ তিনি শুনে ভবন থেকে বাইরে বের হন। দেখেন, রিকশার ওপর একজন আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। অন্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। হাদীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা একজন বলেন, বাম কানের পাশে একটি গুলী করা হয়েছে। একই তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শরীফুল ইসলামও।
প্রায় চার দশক ঢাকায় অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা করে আসা পারভেজ খান ঘটনার পর্যবেক্ষণে বলেন, এরা অনেক পেশাদার শ্যুটার। অনেকসময় কাকতালীয় কিছু ঘটনাও ঘটে যায় অপরাধজগতে। তবে এটা সেরকম না। একটা চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে আরেকটি চলন্ত যানে থাকা টার্গেটকে গুলী করে লক্ষ্যভেদ করা খুবই কঠিন কাজ। এই শ্যুটার সেই কাজটিই করেছে, তাও আবার একটি মাত্র গুলী খরচ করেই। প্রফেশনাল শ্যুটার ছাড়া এটা সম্ভবই না। অনেক সময় ‘নবিশ’ অপরাধীরা ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধের সময় বেকায়দায় টার্গেটকে ছুরিকাঘাত করে বসে, যাতে টার্গেটের মৃত্যু ঘটে। এরকম ঘটনা অনেক দেখা গেছে। এটা এরকম কাকতালীয় ঘটনা নয়। জুলাইর গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন ছাত্রনেতা ওসমান হাদী। বিক্ষোভের সময় তার জ্বালাময়ী বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু শিক্ষার্থী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন। গণঅভ্যুত্থানের পরও তিনি রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।
দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই অনুসরণ করছিল হাদীকে: হাদীর সমর্থকদের মতে, এ ঘটনায় জড়িতরা আগে থেকেই হাদীকে অনুসরণ করছিল এবং তার নির্বাচনি প্রচারণায় লিফলেট বিতরণেও অংশ নিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজয়নগর বক্স কার্লভার্ট রোডের ডিয়ার টাওয়ারের সামনে এ কথা জানান ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মো. সাফিউর রহমান। সাফিউর রহমান বলেন, হাদী ভাই আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সামনে ক্যাম্পেইন করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী দলীয় সবাই সেখানে উপস্থিত হচ্ছিলেন। এসময় ওই দুই দুর্বৃত্তও উপস্থিত ছিলেন। তারা গত সপ্তাহেও একদিন আমাদের সঙ্গে ক্যাম্পেইন করেছিল। সব সময় মাস্ক পরা থাকতো তাদের, কোনো সময় তা খুলতো না। পিআর টিম তাদের ছবি তুলতে চাইলে তারা বলেছেন, ‘মাস্ক খুলা যাবে না, ঝামেলা আছে।’ তাই ছবিগুলো মাস্কের ওপর দিয়েই তোলা হয়। আমাদের কাছে সেই ছবিও রয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, এরপর ক্যাম্পেইন শেষ হলে সবাই নিজের পথে চলে যায়। হাদী ভাইয়ের সঙ্গে তখন নয়জন ছিলেন। তারা তিনটি রিকশা নিয়ে রিকশা প্রতি তিনজন করে যাত্রা শুরু করেন। প্রথম রিকশায় হাদী ভাইসহ তিনজন ছিলেন। তারা খলিল হোটেলের সামনে একটি মসজিদে নামাজ পড়ে হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদের মুয়াজ্জিনও তাদের সঙ্গে রিকশায় ছিলেন। পরে তারা হাইকোর্টের সামনে খাওয়া সেরে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে রাতে একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, হাদী ভাই ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন মসজিদে নামাজ পড়ার সময় ওই দুই দুর্বৃত্ত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নামাজ শেষ করে তারা তিনটি রিকশায় হাইকোর্টের সামনে খেতে যাচ্ছিলেন, তখন ওই দুইজন মোটরসাইকেলে রিকশার সঙ্গে চলে আসে। এরপর হঠাৎ পকেট থেকে পিস্তল বের করে গুলী করে পালিয়ে যায় তারা। ওই দুইজন আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিল। কয়েকদিন তারা আমাদের প্রোগ্রামেও এসেছে এবং লিফলেট বিতরণে অংশ নিয়েছে। মোটামুটি আমাদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে উঠলেও তারা কখনো মুখ দেখায়নি, সবসময় মাস্ক পরে থাকতো। গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন হাদী। ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুনসহ তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জনতার ভিড়, সেনাবাহিনী মোতায়েন : গুলীবিদ্ধ ওসমান হাদীকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ঢল নামে ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবারবিকেলে ঢামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সামনে ওসমান হাদীর সমর্থক ও সাধারণ উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জরুরি বিভাগের মূল ফটকে অবস্থান করে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন সেনাবাহিনী সদস্যরা। শাহবাগ থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসা রিপন মিয়া বলেন, ‘হাদী ভাইকে ভালো লাগে, তিনি আমার প্রিয় ব্যক্তি। তাকে গুলীর ঘটনা শুনে ছুটে এসেছি। ’মাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘হাদী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে কথা বলতাম। খবর শুনেই ছুটে এসেছি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা হাদীর শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন খবর শুনে তাদের অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ দুই হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছেন। সবার একটাই চাওয়া, আল্লাহ যেন ওসমান হাদীকে ফিরিয়ে দেন। দেখা গেছে, জরুরি বিভাগ, ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার, আইসিইউ করিডোর ও হাসপাতালের প্রতিটি কোণ জুড়ে একই দৃশ্য– উৎকণ্ঠা, কান্না, আর এক ধরনের গভীর অসহায়ত্ব। ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ হাদীকে এক নজর দেখতে সবাই ছুটে এসেছেন। হাসপাতালের বাইরে চতুর্দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন হাজারও মানুষ। হাসপাতালের আইসিইউর সামনে অপেক্ষমাণ হাদীর রাজনৈতিক সহকর্মীরা। কেউ কথা বলতে পারছেন না, কেউ চুপচাপ দেয়ালে হেলান দিয়ে কাঁদছেন। শুধু তার দলই নয়, সহমর্মিতা জানাতে এসেছেন নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের মানুষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারের সামনে নেতাকর্মীদের কাঁধে হাত রেখে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে কাঁদতে দেখা গেছে। তাকে দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা গেছে। পাশেই হতবিহ্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদকেও। ঢাকা মেডিকেলের সামনে অপেক্ষমাণ সব নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখুক হাদীকে। রাকিব হাসান নামে এক ঢাবি শিক্ষার্থী বলেন, হাদী ভাইয়ের ওপর হামলার মানে হচ্ছে জুলাই বিপ্লবীদের ভয় দেখানো। কিন্তু হাদী ভাই ইতোমধ্যে লাখো মানুষের মন জয় করে ফেলেছেন। সব স্তরের মানুষ তাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন। এভাবে তাকে থামানো যাবে না।
তোপের মুখে মির্জা আব্বাস: হাদী গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তবে সেখানে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি। বিকেল ৪টার দিকে মির্জা আব্বাস ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে পৌঁছালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও হাদীর সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার দিকে তেড়ে যান তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, স্লোগান ও উত্তেজনার মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত মির্জা আব্বাসকে নিরাপত্তা দিয়ে হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশ করান।
গুলীবর্ষণকারীকে খুঁজে বের করা হবে: শরিফ ওসমান হাদী গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদী দুর্বৃত্তদের গুলীতে আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা খুব গুরুতর। তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদীর ওপর গুলীবর্ষণকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।