জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে চলছে একটি উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে ঢাকা শহরে ছোট ছোট চায়ের দোকানে নির্বাচনের আমেজ এখন সাধারণ মানুষের চিন্তাজগতের পুরোটা জুড়ে আছে। নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত এবং ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ এখন চায়ের কাপে রাজনীতির ঝড় তুলছে। একটা দীর্ঘ সময় নির্বাচনের উৎসব থেকে বঞ্চিত থাকার পর এবারের নির্বাচন যেন আবারও হারিয়ে যাওয়া উৎসবের স্বাদ নিয়ে এসেছে। নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু হতাশা ও রাজনৈতিক সহিংসতার আতঙ্ক থাকলেও বেশির ভাগের মধ্যে সেই উৎসবের আমেজ দৃশ্যমান।

রাস্তাঘাটে বের হলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষকে আকৃষ্ট করতে নির্বাচনী মিছিল করছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকা নির্বাচনী জোট প্রচারণায় নিজ নিজ পক্ষ থেকে দেশের মানুষের প্রতি অঙ্গিকার করছেন। জামায়াতে ইসলামী বিএনপি এবং এনসিপিসহ সবগুলো দল ইতিমধ্যে ইশতেহার ঘোষণা শেষ করেছেন। এগুলো দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যেন কোনো কার্পণ্য থাকে না। সামর্থ্য ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী চলত ভোটারদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রাখতেও দেখা গেছে নির্বাচনী অফিসগুলোতে।

এবারের প্রচারণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। ডিজিটাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণার ক্ষেত্রে এক বিরাট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, বিশেষ করে তরুণদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে। প্রথাগত পেশিশক্তির বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের আকৃষ্ট করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বড় আকারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন হয়ে উঠছে জনপ্রিয়তার বয়ান তৈরির একটি মাধ্যম।

নির্বাচনের আগে আগে কিছু জরিপভিত্তিক গবেষণার তথ্যÑউপাত্ত নিয়ে মিডিয়ায় নানা আলাপ ও আলোচনা চলছে। এখানে মূলত সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। এসব আলোচনা চলছে চায়ের টেবিলে। তবে নির্বাচনে ভোটের ধারণাগত জরিপের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ভোটের সময় ভিন্ন হতে পারে, কেননা একজন প্রার্থীকে মানুষের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে, যা এ ধরনের জরিপ তুলে আনতে পারে না।