ধর্মউপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় জ্ঞান অন্যতম চালিকাশক্তি। এই জ্ঞান অর্জন, বিকাশ ও প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হলো গবেষণা। গবেষণালব্ধ বই যুগের আলোকবর্তিকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার, রাজধানীর ঢাকায় বায়তুল মোকাররম আন্তর্জাতিক বইমেলায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ কর্তৃক প্রকাশিত এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর, বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. আহমদ আলী রচিত “আধুনিক চিন্তাধারা ও মতবাদ” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মউপদেষ্টা বলেন, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে লেখক অনুসন্ধানের ফলাফল, নিজের উপলব্ধি ও চিন্তাধারাকে প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে জ্ঞানের নতুন দিক উন্মোচিত হয়, জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। তাই গবেষণালব্ধ গ্রন্থ নিছক কোন বই নয়; এটি এক অর্থে যুগের দর্পণ ও ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা।

ধর্মউপদেষ্টা আরো বলেন, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো অজানাকে জানা ও বিদ্যমান জ্ঞানের পরিধিকে সম্প্রসারণ করা। গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মাধ্যমে সেই নতুন জ্ঞানকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের চিন্তাকে বিকশিত করতে পারে এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়।

বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বইটির রচয়িতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ আলী বক্তব্য দেন।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড.নকীব নাসরুল্লাহ বলেনÑ "প্রাঞ্জলভাবে ও যুক্তিভিত্তিক রচয়িত এই গ্রন্থে লেখক বিভিন্ন মতবাদের সংজ্ঞায়ন করে এর বিপরীতে ইসলামের আধুনিক চিন্তাধারাকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছেন। গবেষণাধর্মী বইটিতে লেখক চমৎকারভাবে অন্যান্য প্রচলিত মতবাদের অসারতা উল্লেখ করেছেন যেমন, তেমনি ইসলামের বিধানগুলোকে একে একে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য বলে প্রমাণ করেছেন, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।" পরিশেষে তিনি বইটির বহুল প্রচার কামনা করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি আব্দুস ছালাম খান বলেন, এ গ্রন্থ এটাই প্রমাণ করেছে যে, ইসলামই হচ্ছে মানব রচিত সকল মতবাদের মোকাবেলায় একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান ও দ্বীন। এজন্য সকলের উচিত বিভিন্ন মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে নিজের ঈমান রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালানো। গ্রন্থকার প্রফেসর ড. আহমদ আলী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেনÑ বস্তুবাদ, উদারতাবাদ, মানবতাবাদ, যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা, সেকুলারিজম, আধুনিকতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিষয়গুলো অনেকের কাছেই ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাশন হয়ে গেছে। আবার আধুনিক সংস্কৃতি মানুষকে টেনে নিচ্ছে বস্তুবাদ, আত্মসুখবাদ, অশ্লীলতা, সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডারিজম আর উগ্রনারীবাদের দিকে।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বইটির গুরুত্ব, প্রাসঙ্গিকতা এবং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের চিন্তাচর্চায় সম্ভাব্য প্রভাব বিষয়ে গবেষণাধর্মী এই প্রয়াসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই গ্রন্থ তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, দু’খণ্ডে এ বইটি প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশ ইসলামিক ল'রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার।