আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, শনিবার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও শহীদদের প্রতি ভালবাসায় উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বানী দিয়েছেন।
গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। একুশের ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনগণ।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি ও বিদেশী কূটনীতিকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা প্রদানকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বিধান করেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। পুলিশ র্যাব থেকে শুরু করে সমস্ত গোয়েন্দা বাহিনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা বিধানে নিরলস কাজ করছে। বিষয়টি ্ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করছেন। গতকাল র্যাবের ডিজি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেন, তবুও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব প্রস্তুত রয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাবের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।তিনি বলেন, র্যাবের ইনার প্যারিমিটার, আউটার প্যারিমিটারে ফোর্স আছে এবং কয়েকটা সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটা সেক্টরেই র্যাবের ফুট পেট্রোল, গাড়ির পেট্রোল এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে। এছাড়া শহীদ মিনার এলাকাটি ভালোভাবে সুইপিং করা হয়েছে। র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরো এলাকায় ৬৪টি ক্যামেরার মাধ্যমে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এদিকে মহান মাতৃভাষা দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। বাঙালি জাতির কাছে এটি একদিকে যেমন গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন।
১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে গিয়েছিল। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের ইতিহাস হয়ে যুগে যুগে মানুষের মনে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
আজ একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হচ্ছে। ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।