মোঃ শামীম হোসেন (সাভার সংবাদদাতা) : সাভারে থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কসহ বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র ঈদের পঞ্চম দিন শুক্রবারও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত ছিল। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রাজধানীর নগর জীবনের কোলাহল থেকে একটু দূরে সাভারে বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।
থিম পার্ক দু’টিতে প্রবেশের আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর ভেতরে প্রবেশে আরেক দফা লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও প্রতিদিন লাখো দর্শক ভিড় ঠেলে বিনোদন করেন। বিশেষ করে প্রতিদিন বিকেলে পার্ক দু’টিতে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না। এর মধ্যে ঈদের ছুটির শেষে দিনটি শুক্রবার হওয়ায় সেই ভিড় চরমে ওঠে।
এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেটের ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক, নীলা বর্ষা রিভার কুইন পার্ক, আলাউদ্দিন পার্ক, বিভিন্ন ভ্রমণ স্পট, রুপনগর, মিনি চিড়িয়াখানা, বংশাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট, চামড়া শিল্প নগরী হরিণধরা, বলিয়ারপুরে যমুনা ন্যাচারাল পার্কসহ বেশ কিছু বাগান বাড়িতে ভ্রমণ পিপাসুরা দলে দলে ভিড় করেন। ঈদের দিন বিকেল থেকে এ সব বিনোদন কেন্দ্রে একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। এ বছর এখনও বৃষ্টি না হওয়ায় ও অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকায় বিনোদন প্রেমীদের উপস্থিতি ছিল অন্যবারের চেয়ে বেশি।
থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডমে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। অনেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষার পর ফিরে যাচ্ছেন পরে আবার আসবেন বলে। অনেক ক্ষেত্রে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর দর্শনার্থীরা নির্ধারিত রাইডে চড়তে সমর্থ হন।
দর্শনার্থীরা রোলার কোস্টার, শান্তা মারিয়া, ভূতের টানেল বা ইজিডিজি, ম্যাজিক কার্পেট, বাম্পার কারসহ বিভিন্ন রাইডে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে এ্যকুরিয়ামের টানেল পেরোলেই ওয়াটার কিংডমের কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ঢেউয়ের সঙ্গে নিজেদের মেলে ধরে উল্লাসে মেতেছেন কিশোর কিশোরী ও বয়জৈষ্ঠরা। তবে তরুণদের মূল আকর্ষণ ছিল ওয়াটার কিংডমে। সেখানে তারা ডিজে গানের তালে নীল পানির কৃত্রিম ঢেউয়ে গা ভাসিয়েছেন। আবার কৃত্রিম পাহাড়ের ঝরনার পানিতে আনন্দে মেতেছেন জুটি বেঁধে আসা তরুণ-তরুণীরা। এসময় প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি আর স্মৃতির মুহূর্তগুলো মুঠোফোনে ধরে রাখতে ব্যস্ত দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
ঈদের পঞ্চম দিন পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, অবরুদ্ধ পরিবেশ থেকে ফ্যান্টাসি কিংডমে খোলামেলা জায়গায় খুব ভাল লাগছে। শহুরে জীবন থেকে খানিক রিলাক্স। তিনি আরো জানান, বাপ-ছেলে খুবই মজা করেছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
একই কথা জানালেন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গার্মেন্টসকর্মী রবিউল ইসলাম রবি। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলেসহ ফ্যান্টাসি কিংডম পার্কে প্রবেশ করার পর ৪টি রাইডে চড়তে পেরেছেন। এত ভিড়ের মধ্যেও তার ছেলে পার্কটিতে এসে দারুন উপভোগ করেছে বলেও জানান এ গার্মেন্টসকর্মী।
ফ্যান্টাসি কিংডমের সিনিয়র সিএমও অনুপ কুমার সরকার জানান, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এ বছর ঈদের পর থেকে আধুনিক মানের ড্রপ অ্যান্ড টুইস্ট টাওয়ার, মিনি টপ পিন ও মিনি জেট সিক্রসহ আরো ৩টি রাইড উদ্বোধন করা হলো। ঈদ পরবর্তী ১০ দিনের জন্য প্যাকেজ ছাড় এবং বৈশাখী অফারও রয়েছে। তাই সারা দেশের দর্শনার্থীদের পরিবারসহ এসে উপভোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
এদিকে শুধু ফ্যান্টাসি কিংডমই নয় জিরানী এলাকায় অবস্থিত আরেক থিমপার্ক নন্দন পার্কসহ সাভারের মিনি অরণ্যালয় চিড়িয়াখানা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধেও নামে দর্শনার্থীদের ঢল। ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে এ স্মৃতিসৌধকে সাজানো হয়ে থাকে। ঈদ, পূজা পার্বনসহ বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে মানুষ দল বেঁধে ভিড় করে এখানে।
ঈদের আমেজে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছে জাতীয় এ সৌধে। এ ছাড়াও নৌকা ভ্রমণ ও ট্রলার যোগে ঈদ আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে তরুণ যুবকসহ নানা বয়সের বিনোদন প্রেমী।
এ ছাড়াও বংশাই নদীতে শত শত ছোট কোষা নৌকায় চড়ে বেড়াচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুরা। ধলেশ্বরী নদীর তীরে রয়েছে ফেরদৌসই-ব্যাঁরী। আর সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেট কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন থেকে ফ্যান্টাসী ওয়ার্ল্ড নামে মার্কেটের চারতলায় শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন। যা এখন আশপাশের ব্যস্ততম সব শ্রেণি পেশার লোকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।