জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই নিজের নির্বাচনী এলাকা মিরপুরের রাস্তা পরিষ্কার করতে নামলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বুধবার ভোরে ঝাড়– হাতে তিনি সড়ক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। ফজরের নামায শেষে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে বের হয়ে ডা. শফিকুর রহমান গ্লাভস হাতে ঝাড়– ও মুখে মাস্ক পরে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি তার দেওয়া কথা রাখছেন। তিনি বলেন, নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখলে দেশও পরিষ্কার থাকবে।
এ সময় তিনি নিজ হাতে ঝাড়– দিয়ে রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং ময়লাগুলো সঙ্গে থাকা নির্দিষ্ট গাড়িতে রাখেন। এভাবে তিনি প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বলেছিলাম রাস্তা পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে আমার কাজ শুরু করব। আমি আমার কথা রাখছি। এটি কেবল একদিনের লোকদেখানো কর্মসূচি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন এই এলাকায় কাজ করবে। মিরপুরকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জামায়াতের প্রধান দলের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধা ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তারা যদি এক ঘণ্টা করে সময় দিতে পারে, তাহলে আরও ভালো।
তিনি বলেন, এবার আমি জিতেছি। পরেরবার হয়তো তারা জিতবেন। এটা কোনো বিষয় নয়। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। উন্নয়নকাজ দলীয় পরিচয় ও ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আজই আমার দায়িত্ব শেষ করছি না; এটা কেবল শুরু। আমি ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন এখানে এসে এলাকা পরিষ্কার করব। আর যদি ঢাকার বাইরে থাকি, সেখানেও সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করব।
সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। আর সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের আবর্জনা দূর করতে চাই। রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করতে চাই। মানবিক সংশোধনের জন্য আমাদের আজকের এই অভিযান। আজকের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার মানে হচ্ছে আমার প্রিয় মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে এই বার্তা দেওয়া যে, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ব, যাতে করে আমাদের পরিবেশও সুন্দর থাকবে, আমাদের মনটাও সুন্দর থাকবে। পরিবেশ যখন সুন্দর থাকে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। তখন মানুষ ভালো হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়। আমরা সেই বার্তাটাই মূলত দিতে চাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আন্তরিক হই ও নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আজকের এই বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে আমার প্রিয় এলাকাবাসী ও সহকর্মীগণকে বলব, আজ এটা লোক দেখানো নয়, আজ কেবল শুরু। প্রতিদিন ফজরের পরে আমাদের প্রত্যেক ইউনিট সংগঠনকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করতে হবে। এক ঘণ্টা করতে পারলে আরও ভালো। এরপর তারা পরিবারসহ সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজে ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “আমি চাই, আজ থেকে মিরপুর এলাকা একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। এ কাজ করতে আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে আমার দাবি থাকবে- এই এলাকাকে যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা না হয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এই জুলাইয়ের কারণেই তো এই নির্বাচন এবং জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আর আমি হয়েছি বিরোধী দলীয় নেতা। জুলাই না এলে কি আমরা এটা হতে পারতাম? তাই আমাদের অবশ্যই জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে ও সম্মান করতে হবে। এবং জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে যে সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। যদি সরকারি দল উদ্যোগ নেয়, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে কথা বলব- কিন্তু ছেড়ে দেব না।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোঃ সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদসহ বহু নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।