বর্ষা মৌসুমে ঢাকা দক্ষিণে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি করে, এমন ৩৩টি হটস্পট চিহ্নিত করার কথা বলেছেন নগর সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বক্স কালভার্টসহ এসব স্থান পরিষ্কারের প্রয়োজনীয় কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কাজের উদ্বোধনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-ডিএসসিসির প্রশাসক এ কথা বলেন। সেগুনবাগিচা ছাড়া অন্য বক্স কালভার্টগুলো হল-পান্থপথ, টিটিপাড়া ও পরিবাগ।
আবদুস সালাম বলেন, মোট ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা হটস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। সাধারণত চার মাসব্যাপী এই পরিষ্কার কার্যক্রম চললেও এবার তা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাল ও বক্স কালভার্ট পুনরুদ্ধার এবং সংস্কারের মাধ্যমে আমরা পানিবদ্ধতা দূর করতে চাই। তবে এই কাজে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতেই এই ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় নালা বা কালভার্টে বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের পানিবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ থেকে রাজধানীর চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু হলো। নির্ধারিত সময়সীমা পাঁচ মাস হলেও বর্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে এই বক্স কালভার্টগুলোর বর্জ্য অপসারণ করে পানির প্রবাহ সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
প্রশাসক জানান শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে টিটিপাড়া পাম্পস্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কালভার্টটি পরিষ্কার হলে সেগুনবাগিচা, সচিবালয়, পল্টন, মতিঝিল ও নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পানিবদ্ধতা নিরসনে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- চিহিৃত হটস্পটগুলোতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি এলাকার জন্য জরুরি সাড়াদানকারী দল বা ইআরটি প্রস্তুত রাখা, অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও কর্পোরেশনের আওতাধীন দুটি স্থায়ী পাম্প স্টেশনকে সম্পূর্ণ সচল করা হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র ডিএসসিসি এলাকার পানি নির্গমনের জন্য টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল এলাকায় ৩টি আউটলেট রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। দ্রুত পানি নির্গমনের নিউ মার্কেট ও পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট এলাকায় দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা ওয়াসা থেকে প্রাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যানটি আধুনিকায়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের সুপারিশ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী কাজ পরিচালনা করা হবে। জিরানি, শ্যামপুর, কালুনগর ও মান্ডা চারটি খালের প্রবাহ সচল ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রকল্প চলমান রয়েছে।