বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে দুর্নীতি বর্তমানে কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গত ৫৪ বছরে রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতিকে লালন-পালন করা হয়েছে। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দুর্নীতির মূল উৎপাটনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দলটির দুর্নীতি দমন, নদী সংস্কার, চাহিদাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, নদী শাসনের নামে বহু প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রকৃত সংস্কার হয়নি। নদী শাসন নয়, নদী সংস্কার করতে হবে। নদী বাঁচলে দেশও বাঁচবে।

যুবসমাজের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বেকার ভাতা নীতির বিরোধিতা করেন বলেন, আমরা কাউকে বেকার ভাতা দিয়ে ছোট করবো না। যুবকরা জীবন দিয়ে বেকার ভাতা দাবি করে নি। বেকার ভাতা নয়, বরং দেশের চাহিদাভিত্তিক টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে জামায়াত।

বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যাদের সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত করা হয়েছে, আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে সেই জায়গা থেকেই।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে প্রথম গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। এ নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন আপনারা।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইদীকে বিনা অপরাধে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে এবং গত সাড়ে ১৫ বছরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জামায়াতের বহু নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের ১৫ জনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

সমাবেশে মেহেন্দীগঞ্জসহ বরিশালের বিভিন্ন এলাকার লোকজন অংশ নেন। এসময় দলীয় স্লোগান, হাততালি ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মঞ্চে জেলার ৫টি আসনের জামায়াতসহ জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।